সুরা দোহা পবিত্র কোরআনের ৯৩ তম সুরা। এই সুরাটি নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট অত্যন্ত আবেগঘন এবং চমৎকার। এটি সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হৃদয়ে প্রশান্তি দেওয়ার জন্য নাজিল হয়েছিল।
মূলত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নিয়মিত জিবরাইল (আ.) ওহি নিয়ে আসতেন।
কিন্তু হঠাৎ করেই বেশ কিছুদিনের জন্য মতান্তরে ১৫ থেকে ৪০ দিন ওহি আসা বন্ধ হয়ে যায়। তখন জিবরাঈল (আ.) আর আসছিলেন না। প্রিয় নবীজি (সা.)-এর জন্য এটি ছিল চরম দুশ্চিন্তা ও মানসিক যন্ত্রণার সময়। তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন না তো?
এদিকে ওহি আসা বন্ধ হওয়ার খবর শুনে মক্কার মুশরিকরা উপহাস শুরু করে।
বিশেষ করে আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল রাসুল (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত কটু কথা বলে। সে বলেছিল, ‘হে মুহাম্মদ! আমি দেখছি তোমার শয়তান (নাউজুবিল্লাহ) তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে, সে তো তোমাকে আর দেখা দিচ্ছে না!’ মক্কার মুশরিকদের এমন বিদ্রূপ এবং ওহি না আসার নীরবতা রাসুল (সা.)-কে ভীষণভাবে ব্যথিত করেছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই বিষণ্ণতা দূর করতে এবং মুশরিকদের জবাব দিতে আল্লাহ তাআলা চমৎকার এই সুরাটি নাজিল করেন। সুরার শুরুতেই আল্লাহ দিনের আলো এবং রাতের অন্ধকারের কসম খেয়ে প্রিয় নবীকে আশ্বস্ত করেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৯৮৩) ঘোষণা করেন— ‘আপনার রব আপনাকে ছেড়ে যাননি এবং আপনার প্রতি অসন্তুষ্টও হননি। তারপর আল্লাহ তাআলা ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিয়ে বললেন, আপনার জন্য পরের সময়গুলো আগের চেয়ে আরও উত্তম হবে। পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, মহান আল্লাহ আপনাকে এমন কিছু দান করবেন, যাতে আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।
অতীতের স্মৃতিচারণ করে আল্লাহ মনে করিয়ে দেন যে—কীভাবে তিনি তাকে এতিম অবস্থায় আশ্রয় দিয়েছিলেন, পথহারা অবস্থায় পথ দেখিয়েছিলেন এবং নিঃস্ব অবস্থায় অভাবমুক্ত করেছিলেন।
এই সুরাটি নাজিল হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারায় আনন্দের আভা ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি মানসিকভাবে প্রচণ্ড শক্তি ফিরে পান। এমনকি তিনি খুশিতে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবির দিয়েছিলেন।
এ ঘটনা থেকে একটি নিয়ম প্রচলিত আছে যে, কোরআন খতমের সময় সুরা দুহা থেকে পরবর্তী সুরাগুলোর মধ্যে তাকবির পড়া সুন্নাত বা মুস্তাহাব বলে গণ্য হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









