The Daily Adin Logo

কালের বিবর্তনে খেজুর গাছ বিলুপ্তি পথে, মিলছে না রস

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

কালের বিবর্তনে খেজুর গাছ বিলুপ্তি পথে, মিলছে না রস

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চল থেকে শীত মৌসুমের মুখরোচক খেজুরের রস পাওয়া দুস্কর হয়ে গেছে। উপজেলায় হিমেল শীতল হাওয়া এবং ঘন কুয়াশার মধ্যেই খেজুরের রস পাওয়া যায়। তবে খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী রস মিলছে না। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারনে খেজুর গাছের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে গেছে। ফলে গাছে হাড়ি বাঁধলেও চাহিদা অনুযায়ী রস মিলছে না। খেজুর গুড়ের চাহিদা থাকলেও রস কমে যাওয়ায় ভাল গুড় পাওয়া যাচ্ছে না। খেজুর গাছ কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হতে চলছে। শীতকালে গ্রামের সাধারন মানুষের জীবন ও জীবিকার এবং বাড়তি আয়ের অন্যতম হিসাবে খেজুরের রস ছিল। গাছিরা শীত মৌসুমের শুরুতেই খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়তো। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে গাছিরা এক গাছ থেকে অন্য গাছের রস সংগ্রহ করতো। সারি সারি রসের হাড়ি দেখে সাধারন মানুষ আনন্দে আত্নহারা হয়ে যেত। কালের বিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন আর আগের মতো চোখে পড়ছে না।

উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে এখন আর আগের মত খেজুর গাছ চোখে পড়ে না। গ্রামের রাস্তার দুই পাশে সারি সারি খেজুর গাছ এখন আর নেই। আবাদি কিংবা অনাবাদি জমি ও বসতঘরের আশেপাশে খেজুর গাছ থাকলেও মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে কেটে ফেলেছে। অনেকে গাছ কেটে জ্বালানী হিসাবে বা টাকার জন্য অল্প দামে বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে কালের ক্রমে ধীরে ধীরে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে। বানিজ্যিক ভাবে এই গাছটি কেউ রোপন করছে না। এই গাছ রাস্তা,বসতঘর,আবাদি কিংবা অনাবাদি জমির আশেপাশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে থাকে। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে গ্রামাঞ্চলে সারি সারি খেজুর গাছ ছিল। গ্রামের গাছিরা কুয়াশার চাদরে ঢাকা শীতের ভোরে খেজুরের রস সংগ্রহে নেমে পড়তো। এখন আর এই দৃশ্য চোখে পড়ে না।

উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রতি বছর শীতের আমেজ শুরু হওয়ার সাথে সাথে খেজুর গাছ কাটতে গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়তো। গাছ কমে যাওয়ায় এখন আর আগের মত কেউ গাছ কাটছে না। ফলে গাছিদের রস সংগ্রহে খুব কম দেখা যাচ্ছে। ঘন কুয়াশায় পড়ে খেজুর রসের মন মাতানো সুমিষ্ট ঘ্রান আর দেখা মিলছে না। উপজেলা সদর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহাবুল বলেন, শীত আসলেই খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহের জন্য নেমে পড়তাম। খেজুর গাছ কাটার পর পরই গাছগুলোতে রসের হাড়ি পরিপূর্ন হয়ে যেত। এই রস আহরন করে গ্রামে গ্রামে খেজুরের মিঠা, পিঠা,পায়েসসহ নানা ধরনের মুখরোচক খাবার তৈরি করা হতো। পর্যাপ্ত পরিমানে রস না পাওয়ায় এখন আর আগের মত সেই ধরনের খাবার তৈরি করা যায় না। তবে ঐতিহ্য ধরে রাখতে উপজেলার গ্রামাঞ্চলে অনেক গাছি পরিবার এখনও খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আগের মত রস পাওয়া যায় না। গাছিরা জানায়, খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় অল্প সংখ্যক গাছ কাটা হয়। এতে এক হাড়ি রস আহরন করা হলে তার দাম প্রায় ৯ শত টাকার কম নয়। এত দাম দিয়ে কেউ রস কিনতে চায় না। তবে শখের বশে কেউ কেউ ক্রয় করে নিয়ে যায়। গ্রামাঞ্চলে শীতকালিন পিঠা উৎসবে খেজুরের রসের কোন পিঠাও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। পর্যাপ্ত গাছ না থাকায় রসের পরিমান কমে গেছে। ফলে শীত মৌসুমের মুখরোচক খেজুরের রস পাওয়া দুস্কর হয়ে গেছে। 

 

 


কাওছার/ন্যাশনাল/এদিন

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.