ত্বক পরিচর্যার জগতে ‘বয়স কম দেখানো’ বা ‘অ্যান্টি এইজিং" ধারণাটি বেশ পরিচিত। বিভিন্ন পণ্য কিংবা আলোচনায় এই ধারণা এতটাই প্রভাব রেখেছে যে, অনেকের কাছে ‘বয়সের ছাপ মুছে ফেলাই’ ত্বকচর্চার প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এ সময়ে নতুন একটি ধারণাও গুরুত্ব পাচ্ছে। তা হল ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতা। যা শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয়, বরং ত্বকের সুস্থতা ও স্থায়িত্বের কথা বলে।
দীর্ঘস্থায়ী ত্বকস্বাস্থ্য বলতে যা বোঝায়
ত্বককে সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার বিষয় হিসেবে না দেখে বরং যত্নে রাখাই সঠিক কাজ। অর্থাৎ ত্বককে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে যত্ন করা দরকার।
এই ধারণায় ত্বকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ত্বকের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখা। কোলাজেন সংরক্ষণ, প্রদাহ কমানো, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা এবং ত্বকের প্রাকৃতিক বাধাকে শক্তিশালী রাখা।
“অর্থাৎ, শুধু বলিরেখা কমানো নয়, বরং ত্বককে দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্থিতিশীল রাখা প্রয়োজন” বলেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপ-বিশারদ শারমিন কচি।
পুরানো ধারণার সঙ্গে পার্থক্য
ত্বকের বাহ্যিক লক্ষণ, যেমন- বলিরেখা, দাগ বা ত্বকের ঢিলাভাব কমানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয় ‘অ্যান্টি এইজিং’ ধারায়।
অন্যদিকে শুধু ত্বকের ওপরের পরিবর্তন নয়, বরং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গে ত্বকের সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় নতুন এ ধারা।
খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, ঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলোও এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
যে কারণে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ
ত্বকের যত্নে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা ভালো ফলাফল দেয়। দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের বদলে নিয়মিত যত্ন এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ অনেকের কাছেই গুরুত্ব পাচ্ছে।
শারমিন কচি বলেন, “কীভাবে দীর্ঘদিন ত্বক সুস্থ রাখা যায় তা অনেকেই ভাবেন। শুধু সাময়িকভাবে দাগ বা বলিরেখা ঢেকে রাখা ত্বক চর্চা নয়। সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা, প্রতিদিনের যত্ন এবং ধীরে ধীরে ত্বক উন্নত করার প্রবণতাই কার্যকর যত্ন।”
বলিরেখা কমানো ও কোলাজেন বাড়ানোর টিপস
ত্বকের বলিরেখা কমানো এবং কোলাজেন বাড়াতে কিছু নির্দিষ্ট উপাদান ও অভ্যাস বেশ কার্যকর।
ত্বকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সেরাম ত্বক উজ্জ্বল করে এবং কোলাজেন উৎপাদনেও সহায়তা করে।
রেটিনল বা রেটিনয়েড-ধর্মী উপাদান নতুন কোষের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে তাই বলিরেখাও ধীরে ধীরে কমে।
পাশাপাশি হায়ালুরনিক অ্যাসিড ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে, যা ত্বককে টানটান ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।
এছাড়া ত্বকের স্বাস্থ্য দীর্ঘদিন ভালো রাখতে খাদ্যাভ্যাসেও কোলাজেন বৃদ্ধির জন্য সচেতনতা আনতে হবে।
এক্ষেত্রে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল, যেমন- কমলা, আমলকি, লেবু কোলাজেন তৈরিতে সহায়ক বলে মত দেন এই রূপ-বিশারদ।
পাশাপাশি ডিম, মাছ, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার ত্বকের গঠন মজবুত করে। পর্যাপ্ত পানি তো আছেই সাথে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণও ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে ভাল কাজ করে।
বলিরেখা কমানো ও কোলাজেন বাড়াতে
অ্যালোভেরা উপকারী। এটি ত্বকে ব্যবহারে আর্দ্রতা বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং ত্বককে মসৃণ করে। একই সঙ্গে অ্যালোভেরার রস নিয়ম মেনে খাওয়া শরীরের ভেতর থেকেও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
মধু একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। ত্বকে লাগালে এটি ত্বক নরম ও উজ্জ্বল করে এবং বলিরেখা কমাতে সহায়ক। আবার খাবার হিসেবেও হিসেবেও মধু শরীরের জন্য উপকারী।
দই মৃদু এক্সফোলিয়েটরের কাজ করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে। খাওয়ার ক্ষেত্রে দই হজম ভালো রাখে এবং ত্বকের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ করে, যা ভেতর থেকে ত্বকের সুস্থতায় ভালো প্রভাব ফেলে।
পেঁপে ত্বকে ব্যবহারের মাধ্যমে মৃত কোষ দূর করা যায় আর ত্বককে মসৃণ করে। এটি খাওয়ার মাধ্যমে ভিটামিন ও এনজাইম পাওয়া যায়, যা কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে।
শসা ত্বকে লাগালে ঠাণ্ডা অনুভূতি দেয়, ফোলাভাব কমায় এবং ত্বককে সতেজ রাখে।
“পাশাপাশি শরীর আর্দ্র রাখে শসা, যা ত্বকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ”- বলেন রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









