ইউরোপ মানেই অনেকের কাছে গ্রীষ্মকালীন স্বপ্নের ভ্রমণ। তবে ২০২৬ সালে সেই স্বপ্ন পূরণ কিছুটা জটিল হয়ে উঠেছে। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ, আকাশছোঁয়া বিমানভাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম চালুর কারণে দীর্ঘ সারি, সব মিলিয়ে ইউরোপের জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোতে ভ্রমণ এখন আগের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপগামী ফ্লাইট বুকিং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশেরও বেশি কমেছে। বিশেষ করে প্যারিস, ডাবলিন এবং রোমের মতো জনপ্রিয় শহরগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তবে ইউরোপ ভ্রমণের আকর্ষণ একেবারেই কমেনি। বরং পর্যটকরা এখন বেছে নিচ্ছেন কম পরিচিত, তুলনামূলক সস্তা এবং কম ভিড়যুক্ত গন্তব্য। রোন টু রিও-এর ২০২৬ সালের ট্রাভেল রিপোর্ট অনুযায়ী, ছোট শহরের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। একইসঙ্গে ইউরোপিয়ান ট্রাভেল কমিশন জানিয়েছে, দূরপাল্লার ভ্রমণকারীরা এখন জনপ্রিয় রাজধানীর বাইরে স্থানীয় অভিজ্ঞতার খোঁজ করছেন।
ক্লাসিক ইউরোপ, কম খরচে
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটকরা এখন কম যাতায়াত, বেশি অভিজ্ঞতার দিকে ঝুঁকছেন। ছোট দেশ ও শহরগুলো তাই নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আলবেনিয়া, লাতভিয়া এবং লিথুনিয়ার মতো দেশে স্বল্পমেয়াদি আবাসনের খরচ গড়ে ১০০ ইউরোর নিচে।
স্লোভেনিয়া
বর্তমানে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় গন্তব্যগুলোর একটি স্লোভেনিয়া। আয়তনে ছোট হলেও এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সুইজারল্যান্ড ও উত্তর ইতালির সঙ্গে তুলনীয়, তবে খরচ অনেক কম।
রাজধানী জুবলজানার নদীঘেরা পুরোনো শহর অনেকটা ভেনিসের মতো আবহ তৈরি করে। পাশাপাশি লেক ব্লেড, বহিঞ্জ এবং সোকা ভ্যালি ভ্রমণকারীদের জন্য শান্ত ও মনোরম বিকল্প।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের তুলনায় স্লোভেনিয়া প্রায় ১৫-২৫ শতাংশ সাশ্রয়ী।
লাটভিয়া
লাটভিয়ার রাজধানী রিগা একটি আদর্শ সিটি। ইউনেস্কো স্বীকৃত পুরোনো শহর, আর্ট নুভো স্থাপত্য এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস পর্যটকদের আকর্ষণ করে। খরচের দিক থেকেও এটি বেশ সাশ্রয়ী। বার্লিন, অসলো বা ডাবলিনের তুলনায় রিগায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক কম।
এ ছাড়া, জুন মাসে অনুষ্ঠিত ''জানি'' উৎসব দেশটির অন্যতম আকর্ষণ, যেখানে আগুন, গান ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে উদযাপন করা হয় বছরের সবচেয়ে ছোট রাত।
বলকান উপকূল: ভিড়হীন সমুদ্রসৈকত
সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য ইউরোপের বলকান অঞ্চল এখন সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প। মোনটেনেগ্রো এবং আলবানিয়া দুটি দেশই সুন্দর উপকূল, সুস্বাদু খাবার এবং তুলনামূলক কম ভিড়ের জন্য পরিচিত।
মন্টেনেগ্রোর কটর অঞ্চলের স্বচ্ছ নীল পানি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। অন্যদিকে আলবেনিয়ার বালুকাময় সৈকত, প্রাচীন রোমান ধ্বংসাবশেষ এবং লেক শকদের-এর আশপাশের ট্রেইল ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।
খরচের দিক থেকেও আলবেনিয়া সবচেয়ে এগিয়ে। যেখানে ক্রোয়েশিয়ায় এক রাতের থাকার খরচ গড়ে ২১২ ইউরো, সেখানে আলবেনিয়ায় তা মাত্র ৮৯ ইউরোর কাছাকাছি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন পর্যটকরা “কম জায়গা, বেশি অভিজ্ঞতা” নীতিতে বিশ্বাসী। দ্রুত একাধিক শহর ঘোরার পরিবর্তে তারা একটি অঞ্চলে বেশি সময় কাটিয়ে স্থানীয় সংস্কৃতি উপভোগ করতে চান।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে ইউরোপ ভ্রমণ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও নতুন গন্তব্যের সন্ধান পর্যটকদের জন্য খুলে দিচ্ছে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার দরজা। কম খরচে, কম ভিড়ে এবং বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতায় ভরপুর এই নতুন ইউরোপই হতে পারে এবারের গ্রীষ্মের সেরা পছন্দ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









