রান্নার স্বাদ বাড়াতে নানান ধরনের ভেষজ পাতার প্রয়োজন হয়- যা খাবারের ঘ্রাণ ও রুচি দুটোই বাড়িয়ে তোলে। আর ঘরের ভেতর ছোট ভেষজ বাগান পরিবেশও করে তোলে প্রাণবন্ত।
বাইরে জায়গা না থাকলেও রান্নাঘরে বা বারান্দাতে যে কোনও সময়েই বাগান করা সম্ভব। আর ঘরের ভেতর ভেষজ গাছ লাগিয়ে সারা বছরই তাজা পাতা পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য হার্ব সোসাইটি অব আমেরিকা’র শিক্ষা-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং লেখক জ্যানিস কক্স রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, ‘ঘরে সুগন্ধি ভেষজ গাছ থাকলে তা শুধু ভালো গন্ধই ছড়ায় না, মন ভালো রাখতেও সাহায্য করে।’
ঘরের ভেতর ভেষজ বাগানের যত্ন আলাদা- ঘরের ভেতর গাছ লাগানো মানেই বাইরের মতো একই যত্ন চলবে এ ধারণা ঠিক নয়। ঘরের আলো, তাপমাত্রা ও বাতাস বাইরের পরিবেশের তুলনায় ভিন্ন। তাই ভেষজ গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা করে যত্ন নিতে হয়।
‘দ্য হার্ব সোসাইটি অব আমেরিকা’র পোটোম্যাক ইউনিটের বিশেষজ্ঞ পেগি রিকো বলেন, ঘরের ভেতর ভেষজ চাষ সবচেয়ে কঠিন কাজ। ঘরের আলো বাইরের সূর্যালোকের তুলনায় অনেক কম। কিছু গাছ যেমন- পুদিনা জানালার পাশে কম আলোতেও ভালো থাকে। তবে তুলসী, ওরিগানো বা থাইমের মতো গাছের জন্য অতিরিক্ত আলো দরকার হতে পারে।
আলো ও অবস্থান নির্বাচন- ভেষজ গাছের জন্য প্রতিদিন অন্তত ছয় ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। দক্ষিণমুখী জানালা বা আলো বেশি আসে এমন জায়গা সবচেয়ে উপযোগী। যদি পর্যাপ্ত আলো না পাওয়া যায়, তবে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা যেতে পারে। আলো ছাড়া গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পাতার স্বাদও কমে যায়।
পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম- ভেষজ গাছের পানি চাহিদা একেক রকম। কাঠজাতীয় ভেষজ যেমন- রোজমেরি, সেজ বা থাইম তুলনামূলক কম পানি পছন্দ করে। অন্যদিকে তুলসী, ধনেপাতা, পুদিনা বা পার্সলের মতো গাছ একটু বেশি আর্দ্রতা চায়। ঘরের ভেতর গাছ রাখলে প্রায়ই বেশি পানি দিয়ে ফেলা হয়। আসলে মাটির উপরিভাগ শুকনা লাগলে, তবেই পানি দেওয়া উচিত। টবের নিচে পানি জমে থাকলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে। অতিরিক্ত পানি ধরার জন্য ছোট নুড়ি দেওয়া ট্রে ব্যবহার করলে একদিকে যেমন পানি জমে থাকবে, অন্যদিকে তা ধীরে ধীরে বাষ্প হয়ে গাছের চারপাশে আর্দ্রতা তৈরি করবে।
সার ও পুষ্টির প্রয়োজন- ভেষজ গাছ খুব বেশি সার চায় না। গ্রীষ্মকালে হালকা মাত্রার তরল সার সপ্তাহে একবার দেওয়া যেতে পারে। তবে শীতকালে গাছের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়, তখন সার না দিলেও চলে। বেশি সার দিলে আবার গাছের স্বাদ নষ্ট হতে পারে। তাই পরিমিত সার ব্যবহারই সবচেয়ে ভালো। এছাড়া সার দেওয়ার আগে গাছে ভালোভাবে পানি দিয়ে নেওয়া উচিত, এতে শিকড়ের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে।
পাতা সংগ্রহ ও গাছ ছাঁটাই- রান্নার জন্য পাতা কাটা আসলে গাছের জন্যও ভালো। এতে গাছ আরও ঝোপালো হয় এবং নতুন পাতা গজায়। কিছু ভেষজ গাছ থেকে অল্প অল্প করে পাতা কাটা যায়। আবার কিছু গাছে একটু বেশি কাটলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে একবারে গাছের এক-তৃতীয়াংশের বেশি পাতা কাটা উচিত নয়। এতে গাছ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আর নিয়মিত ছাঁটাই করলেও গাছ দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
টব ও মাটি নির্বাচন- ভেষজ গাছের জন্য এমন টব দরকার যাতে পানি বের হওয়ার ছিদ্র থাকে। সাধারণত ছয় থেকে ১২ ইঞ্চি আকারের টব বেশির ভাগ গাছের জন্য যথেষ্ট। গাছ বড় হলে টব পরিবর্তন করতে হয়। ভেজষ গাছের জন্য মাটি হওয়া চাই ঝরঝরে, যাতে পানি জমে না থাকে আবার প্রয়োজনীয় আর্দ্রতাও ধরে রাখে। কাঠজাতীয় ভেষজের জন্য একটু বালুমিশ্রিত মাটি ভালো কাজ করে। আর আলাদা আলাদা টবে গাছ লাগালে প্রতিটির যত্ন নেওয়াও সহজ হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









