হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর জীবন রক্ষা ও হার্টের মাংসপেশির অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে সবচেয়ে আধুনিক চিকিৎসা হলো ‘প্রাইমারি এনজিওপ্লাস্টি’। রক্ত তরল করার ওষুধের ওপর ভরসা না করে দ্রুত এনজিওগ্রামের মাধ্যমে রিং (স্টেন্ট) বসিয়ে বন্ধ ধমনি খুলে দেওয়াই এই চিকিৎসার মূল কথা। অথচ উন্নত বিশ্বে প্রায় শতভাগ রোগী এই সুবিধা পেলেও সচেতনতার অভাব ও নানা জটিলতায় বাংলাদেশে মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষ এর সুফল পাচ্ছেন।
সম্প্রতি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ও প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. ফজিলা-তুন-নেছা মালিকের লেখা এক নিবন্ধে এই উদ্বেগজনক চিত্র ও জীবন রক্ষাকারী এই চিকিৎসার বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ১১ বছরের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, মোট ১৫,৯৭৭ জন রোগীর মধ্যে মাত্র ১৩.৪% রোগী প্রাইমারি এনজিওপ্লাস্টির সেবা পেয়েছেন। অথচ ৩১.৮% রোগী পরবর্তীতে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় এনজিওপ্লাস্টি করেছেন। চিকিৎসকদের মতে, শুরুতেই এই চিকিৎসা নেওয়া হলে রোগীদের হার্ট আরও সুস্থ ও সক্রিয় থাকত।
‘মিনিট মানেই পেশি’
নিবন্ধে চিকিৎসকরা বলছেন, হার্ট অ্যাটাক হলে প্রধান তিনটি ধমনির যেকোনো একটিতে রক্তের দলা জমে প্রায় শতভাগ রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হার্ট অ্যাটাকের সাথে সাথেই মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। তাই যত দ্রুত রক্তনালি খুলে দেওয়া যাবে, মাংসপেশিগুলো তত দ্রুত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে। একবার হার্টের মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা চিরস্থায়ী হয়ে যায়, যা আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরে আসে না এবং রোগীর পাম্প ক্ষমতাও কমে যায়।
চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা ও ভ্রান্ত ধারণা
প্রাইমারি এনজিওপ্লাস্টি চিকিৎসায় বিলম্ব বা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:
১. আর্থিক সংকট: হুট করে একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করতে না পারা।
২. দেরি ও ট্রাফিক জ্যাম: গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা ভেবে ভুল করে বাসায় কালক্ষেপণ করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্ভোগ।
৩. ভ্রান্ত পরামর্শ: রোগীর লোকজন অনেক সময় তথাকথিত অভিজ্ঞদের টেলিফোনে পরামর্শ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন না।
৪. ভীতি: আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকির ভয়ে অনেকে এই আধুনিক চিকিৎসা থেকে বিরত থাকেন।
বিশেষ উদ্যোগ
রোগীদের আর্থিক কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে প্রাইমারি এনজিওপ্লাস্টি করানোর ক্ষেত্রে করনারি এনজিওগ্রাম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়। এছাড়া হার্ট অ্যাটাক রোগীদের জন্য হাসপাতালটির ইমার্জেন্সি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে খোলা থাকে এবং জরুরি টিম সর্বদা প্রস্তুত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হার্ট মানুষের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ প্রাইমারি এনজিওপ্লাস্টি সেন্টারে গিয়ে সর্বাধুনিক এই চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
প্রফেসর ডা. ফজিলা-তুন-নেছা মালিক
মহাসচিব, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









