একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য বাজার একটি চমৎকার পর্যবেক্ষণাগার। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে যে আমূল পরিবর্তন ও স্বস্তি ফিরে এসেছে, তা নিয়ে জনমানুষের প্রতিক্রিয়া এবং সরকারের ভূমিকাকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
বিশেষ করে, বাজারে যখন কোনো পণ্যের দাম আশঙ্কাজনক স্তর থেকে অবিশ্বাস্যভাবে কমে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসে, তখন তা নিয়ে ভোক্তা সাধারণের মধ্যে যতটা না স্বস্তি বা সাধুবাদ প্রকাশ পায়, ঠিক কোনো পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক কারণে সামান্য বৃদ্ধি পেলেই তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ক্ষোভ বা সমালোচনা ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। আবার রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে বাজার ব্যবস্থাপনায় যে অভূতপূর্ব ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা মূল্যায়নেও জনগণের মধ্যে এক ধরনের দ্বিমুখী মানসিকতা পরিলক্ষিত হয়।
অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ মানুষের এই আচরণকে 'লস অ্যাভার্সন' বা ক্ষতির প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা বলা হয়। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদদের মতে, মানুষ সুবিধা পাওয়ার চেয়ে আর্থিক ক্ষতি বা সুবিধা হারানোর কষ্টকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে অনুভব করে। যখন বাজারে ২০০ টাকার পিঁয়াজ কমে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় নেমে আসে কিংবা চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসে, তখন ভোক্তা সেটিকে সরকারের একটি বড় সাফল্য বা বিশেষ উপহার হিসেবে দেখার বদলে নিজেদের স্বাভাবিক অধিকার হিসেবে ধরে নেয়। কিন্তু অন্যদিকে, বিশ্ববাজারের প্রভাবে রান্নার তেলের লিটারপ্রতি দাম যদি ১৯৬ থেকে ২০৪ টাকার ঘরে পৌঁছায়, তখন সেটি সরাসরি প্রতিটি পরিবারের বাজেটে প্রভাব ফেলে এবং সাধারণ মানুষ অহেতুক সরকারকেই এর জন্য দায়ী করে বসে।
এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনার পাশাপাশি যদি বাস্তব তথ্যের দিকে তাকানো যায়, তবে বর্তমান সরকারের শাসনকালের সাফল্য আর জনকল্যাণমুখী দূরদর্শিতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। দেশের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও স্বাধীন বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিগত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শাসনামলটি ছিল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়। সে সময় প্রশাসনিক তোষণনীতি, লাগামহীন দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট চক্রের অশুভ দাপটে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হয়েছিল আকাশচুম্বী। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ থেকে ১১ শতাংশের উপরে উঠে গিয়ে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অচল করে দিয়েছিল।
কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মেগা সিন্ডিকেটগুলো বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, আর তৎকালীন সরকার কোনো কার্যকর ভূমিকা না নিয়ে নীরব দর্শক হয়ে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। চাঁদাবাজি, পরিবহন খাতের অবৈধ লেভি এবং কৃত্রিম এলসি জটিলতার কারণে বাজার দর সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ বাইরে চলে গিয়েছিল। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী নিজেদের দলীয় সুবিধাভোগীদের পকেট ভারী করার সুযোগ করে দিতে বাজার ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়, যার মাশুল গুণতে হয়েছিল দেশের কোটি কোটি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে।
সেই দুঃসহ ও অচলাবস্থার বিপরীতে বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই বাজার ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক আমূল পরিবর্তন এনেছে। একাধিক জাতীয় অর্থনৈতিক গবেষকের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বর্তমান সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে চাল, চিনিসহ গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যের আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং সবচেয়ে বড় কথা- বিগত সময়ের সেই গেড়ে বসা অসাধু সিন্ডিকেট চক্র ও পরিবহন চাঁদাবাজির রুটগুলো ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে বাজারকে সাধারণ মানুষের পুরোপুরি ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সরকার কেবল পাইকারি বাজারেই অভিযান চালায়নি, বরং প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সহজ ও নির্বিঘ্ন করেছে।
দেশের সীমান্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত পণ্য পরিবহন যেন কোনো বাধা বা অবৈধ চাঁদাবাজির মুখে না পড়ে, তার জন্য বিশেষ প্রশাসনিক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলেই বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের শক্ত বলয় ভেঙে পড়ে এবং বাজারে একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর সুফল সরাসরি পড়েছে তৃণমূলের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। সরকারি উদ্যোগে প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কৃষিপণ্য ক্রয়ের বিশেষ চ্যানেল তৈরি করা হয়েছে এবং সেচ, বীজ ও সারে পর্যাপ্ত সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করায় চাল, আলু ও পিঁয়াজের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন অভাবনীয় স্তরে পৌঁছেছে।
একই সাথে সরকারি গুদাম ও সাইলোগুলোতে খাদ্যশস্যের সরকারি মজুত নিশ্চিত করে যে কোনো সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি তথ্য ও আন্তর্জাতিক খাদ্য উন্নয়ন সংস্থার পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পেয়ে সহনীয় মাত্রায় নেমে এসেছে। পাইকারি বাজারগুলোতে মূল্য তালিকা টাঙানো বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। একই সাথে ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মতে, চাল ও চিনির মতো স্পর্শকাতর খাদ্যপণ্য আমদানির এলসি সহজীকরণ, মার্জিন হ্রাস এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকারের নেওয়া বিশেষ পদক্ষেপের কারণেই আমদানিকারকরাও স্বাচ্ছন্দ্যে সময়মতো পণ্য বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্ষম হচ্ছেন।
পরিসংখ্যান ও অনুসন্ধানী বাজার দর বিশ্লেষণ করলে এই অভাবনীয় পরিবর্তনের বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়। বিগত সরকারের আমলে যে দেশি পিঁয়াজ প্রতি কেজি ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে জল ঝরিয়েছিল, বর্তমান সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপে আমদানির বাধা দূর করায় এবং অসাধু মজুতদারদের চক্রান্ত নস্যাৎ করায় সেই পিঁয়াজ এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। একইভাবে চালের বাজারেও বড় ধরনের স্বস্তি এসেছে; বিগত আমলে সরু ও মাঝারি চালের কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা বর্তমান সরকারের সময়ে শুল্ক প্রত্যাহার, অবাধ আমদানি ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রম ব্যাপক জোরদার করায় অনেকটাই কমে এসে সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দেশের কোটি কোটি নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের পরিবার ভর্তুকি মূল্যে নিয়মিত খাদ্য সহায়তা পাওয়ায় জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।
মিষ্টিজাতীয় ও দৈনন্দিন রান্নার অন্যতম অপরিহার্য উপাদান চিনির ক্ষেত্রেও বিগত ফ্যাসিষ্ট শাসনামলে রিফাইনারি সিন্ডিকেটের কারণে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত গুণতে হতো। বর্তমান সরকারের কঠোর তদারকি এবং চিনি আমদানিতে শুল্ক কমানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে খুচরা বাজারে চিনির দাম ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়ে সাধারণের ক্রয়ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। এছাড়া প্রোটিনের সহজলভ্য ও প্রধান উৎস ফার্মের ডিমের দাম বিগত সরকারের সময়ে সাধারণ মানুষের নাগাল ছাড়িয়ে হালিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় উঠেছিল, যা বর্তমান সরকারের বাজার তদারকি এবং ডিম আমদানির পথ সুগম করার ফলে কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪২ থেকে ৪৫ টাকায়। বিগত সরকারের আমলে আলুর কেজি গিয়ে ঠেকেছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, যা কোল্ড স্টোরেজ ও পাইকারি পর্যায়ে সরকারের ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানের কারণে এখন অর্ধেকেরও নিচে নেমে মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পান এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন অনুপার্জিত মুনাফা লুটতে না পারে, সে লক্ষ্যে সরকারের কৃষি বিপণন বিভাগকে নতুনভাবে পুনর্গঠিত করা অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া বিগত সরকারের সময়ে ২২০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি রসুন বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকার মধ্যে। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের অপরিহার্য উপাদান মসুর ডালের দামও বিগত আমলের ১২০ থেকে ১৪০ টাকার উচ্চ দর থেকে কমে এখন ৯০ থেকে ১০৫ টাকার সহনীয় মাত্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। একমাত্র সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার দর বৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী কাঁচামালের সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টনপ্রতি মূল্যবৃদ্ধির কারণে দাম কিছুটা বেড়ে বর্তমানে ১৯৬ থেকে ২০৪ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, এটি সম্পূর্ণ বিশ্ববাজারের ওপর নির্ভরশীল একটি বৈশ্বিক পরিস্থিতি হওয়া সত্ত্বেও কেবল তেলের এই সাময়িক দরবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সরকারের সার্বিক ঐতিহাসিক সাফল্যকে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য। তেলের মতো আন্তর্জাতিক সংবেদনশীল পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির দায় কোনোভাবেই সরকারের অভ্যন্তরীণ দক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর চাপানো যায় না; বরং সরকার তেলের আন্তর্জাতিক দর বৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতেও ভ্যাট ও শুল্ক কমানোর মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি স্থানীয় পরিশোধনাগারগুলোর ওপর প্রতিনিয়ত তদারকি চালানো হচ্ছে, যাতে বৈশ্বিক পণ্যের দাম কোনো অসাধু সুযোগে দেশে অতিরিক্ত বাড়িয়ে বিক্রি না করা হয়।
চাল, চিনি, পিঁয়াজ, আলু ও ডিমের মতো প্রধান ও মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোকে স্থিতিশীল করা সত্ত্বেও কেন সরকারের যথাযথ সুনাম বা সাধুবাদ জোটে না, তা নিয়ে সমাজ বিশ্লেষকরা আলোকপাত করেছেন। তাঁদের মতে, বিগত দীর্ঘ সময়ের অর্থনৈতিক শোষণ, চরম মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার কষাঘাতে সাধারণ মানুষ যে মানসিক চাপে ছিল, সেখান থেকে পুরোপুরি স্বস্তিতে ফিরতে কিছুটা সময় লাগছে। বিগত আমলে অর্জিত তীব্র মানসিক ক্ষোভ ও অবিশ্বাস রাতারাতি মুছে যায় না। তবে বাস্তব সত্যকে এড়িয়ে গিয়ে কেবল সমালোচনা করা কোনো সুস্থ বা দায়িত্বশীল নাগরিক সংস্কৃতির পরিচয় হতে পারে না। প্রদেয় বিশ্লেষণে শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত হলো, একটি প্রগতিশীল ও সচেতন সমাজের প্রধান দায়িত্বই সরকারের ভুল পদক্ষেপের গঠনমূলক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের অভূতপূর্ব সাফল্য ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে খোলা মনে সাধুবাদ জানানো।
সরকারের সাফল্যকে কেবল একতরফা দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে পরিমাপ না করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে বিচার করা প্রয়োজন। যেখানে প্রতিবেশী এবং বিশ্বের অনেক দেশেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে বর্তমান সরকারের দূরদর্শী অর্থনৈতিক নীতি ও কার্যকর তদারকির ফলে বাংলাদেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক নিশ্চিত করেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো আজ স্বল্প ব্যয়ে তাদের মৌলিক খাদ্য চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মতো কল্যাণমুখী সামাজিক কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক এই স্বস্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তা কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই।
চাল, চিনি, পিঁয়াজ, আলু, ডিম, রসুন বা ডালের মতো প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিকে বিগত সরকারের আকাশচুম্বী দামের অবস্থান থেকে টেনে নিচে নামিয়ে এনে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এনে দেওয়া বর্তমান সরকারের এক ঐতিহাসিক ও অনন্য সাফল্য। অসাধু ব্যবসায়ী ও মেগা সিন্ডিকেট চক্রান্তের হাত থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করে খাদ্যের বাজারে শান্তি, স্বস্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যে প্রশাসনিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা নিঃসন্দেহে অকুণ্ঠ প্রশংসার দাবি রাখে। সরকারের দূরদর্শী নীতি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বাজার নিয়ন্ত্রণের ইতিবাচক ফলাফল আজ প্রতিটি সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে প্রতিফলিত হচ্ছে।
নাগরিক হিসেবে আমাদের যেমন বাজারের ওপর নজর রাখার অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনই অতীত ও বর্তমানের সুস্পষ্ট তথ্যভিত্তিক তফাৎকে নির্মোহভাবে স্বীকার করে জনকল্যাণমুখী এই সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর উদারতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কেবল ঢালাও সমালোচনার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সত্যের মুখোমুখি হওয়া ও বাস্তবতার মূল্যায়ন করাই প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মানসিকতার নিদর্শন। কারণ, কেবল সমালোচনা নয়, সরকারের দূরদর্শী ও ইতিবাচক পদক্ষেপের সঠিক স্বীকৃতি ও প্রশংসা প্রদানই একটি গণমুখী ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থাকে আরো সততা, দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে দেশের মানুষের সেবা করতে উৎসাহিত করে।
লেখক : সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মী


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









