জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগরের মধ্যভাগে গত ১০ দিনে একাধিক নৌকাডুবিতে কয়েক শ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় কয়েক শ অভিবাসনপ্রত্যাশী হয় নিখোঁজ হয়েছেন, নয়তো মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজও ঠিকঠাকভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়নি।
আইওএম তাদের নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ বিবৃতিতে এসব তথ্য উল্লেখ করে উদ্বেগ জানায়। গত শনিবার বিবৃতিটি প্রথম প্রকাশ করা হলেও গতকাল সোমবার সেটা হালনাগাদ করে সংস্থাটি।
আইওএম বলেছে, ‘এসব হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, অবৈধ উপায়ে অভিবাসী পাচার এখনো চলমান। দালাল চক্রগুলো এখনো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এখনো তারা ভাঙাচোরা নৌকায় গাদাগাদি করে মানুষদের সাগর পাড়ি দিতে পাঠাচ্ছে।’
আইওএম জানিয়েছে, এসব অপরাধী চক্র ভেঙে দিতে এবং সাগরে প্রাণহানি ঠেকাতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানানোর সময় এসেছে।
ইতালির ল্যাম্পেদুসায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে তিনজন মারা যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইওএম।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, নৌকাটি তিউনিসিয়ার স্যাফ্যাক্স থেকে এসেছিল। ভুক্তভোগীদের মধ্যে আনুমানিক এক বছর বয়সী যমজ বোন রয়েছে। এই দুজন ইউরোপের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগে আগে হাইপোথারমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। শিশু দুটির মা ও বেঁচে যাওয়া একজন অভিবাসনপ্রত্যাশী (আফ্রিকার দেশ গিনি থেকে আসা) এসব তথ্য জানান।
ওই নৌকায় থাকা আরও একজন পুরুষ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি ইউরোপের ভূখণ্ডে নামার পরপর হাইপোথারমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এসব মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে স্পষ্ট করেছে যে বিপজ্জনক এই সমুদ্রযাত্রায় অংশ নেওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপত্তাঝুঁকি ও দুর্বলতা কতটা প্রকট।
একই অভিযানে উদ্ধার হওয়া কয়েকজন জানান, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে একই সময়ে, একই জায়গা থেকে আরও একটি নৌকা রওনা দিয়েছিল। সেটি আর গন্তব্যে পৌঁছায়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নৌকাটি ডুবে গেছে। তবে সেটির ভাগ্যে আদতে কী ঘটেছে, সেটা স্পষ্ট করে জানা এখনো সম্ভব হয়নি। নৌকাটিতে থাকা মানুষদের জীবন নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ওই নৌকার আরোহীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সেটার বিস্তারিত জানতে কাজ করছে আইওএম। মাল্টা থেকে পাওয়া সংস্থাটির যাচাই করা হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, একটি বাণিজ্যিক নৌযান থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া একজন আরোহী জানিয়েছেন, ওই নৌকাটি ডুবে নিখোঁজ কিংবা মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ জন হতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নৌকায় চেপে বিপজ্জনকভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপের ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা বহুলাংশে বেড়ে গেছে। বেশির ভাগ নৌকা আফ্রিকার দেশ লিবিয়া আর তিউনিসিয়ার উপকূল থেকে ছেড়ে আসে। আরোহী হন বাংলাদেশ, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান ছাড়াও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষ। বিভিন্ন সময়ে নৌকা ডুবে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর খবরও জানা যায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









