মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত আর কার্যকর নেই। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।”
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না। তার ভাষায়, “ওরা জঘন্য। তাদের সঙ্গে কাজ করা শুধু সময়ের অপচয়, কারণ তারা মিথ্যা বলে।” যদিও আলোচকরা এখনো সংলাপ চালিয়ে যেতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন, তবে তার মতে সেই আলোচনা থেকে ইতিবাচক কোনো ফল আসার সম্ভাবনা নেই।
হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
ন্যাটো সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প ইরানের শাসকগোষ্ঠীর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি তাদের “দুষ্ট লোক” এবং “পাগল” বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।”
তিনি মন্তব্য করেন, “এরা দুষ্ট ও অসুস্থ লোক। এরা ক্যান্সারের মতো। ক্যান্সার শুরুতেই থামিয়ে দিতে হয়।”
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, “মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।”
এক বিবৃতিতে আরাগচি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত—এসব কারণে যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আর কার্যকর নেই।
তিনি আরও বলেন, “ইরান তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, যেকোনো হামলার উৎস ও উৎপত্তিস্থলকেই ইরান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর তেহরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে। ইরানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এসব হামলা পরিচালনা করা হয়। হামলার পর বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিও হামলার লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









