ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। কুকি ও মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) কুকি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মেইতেইদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘাতের রেশ এখনও কাটেনি, এর মধ্যেই নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে মণিপুর।
মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা এবং সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ধীরে ধীরে তা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় এক নারী অভিযোগ করে বলেন, কুকি সম্প্রদায়ের কিছু লোক তাদের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছে। এ সময় প্রতিরোধ করতে গেলে সেনাবাহিনী কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এ দিকে পশ্চিম ইম্ফলের লেলন ভাইফেই গ্রামের কাছে চলতি বছরের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া ১৮ জনের মধ্যে ছয়জনের খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ১০ জুন তাদের দেহাবশেষের বাকি অংশ উদ্ধারের পর এলাকায় নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন পক্ষের সংঘাত নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পাশাপাশি মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের অভিযোগও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
২০২৩ সালে মেইতেই সম্প্রদায় তফসিলি উপজাতির মর্যাদার দাবি জানালে কুকি সম্প্রদায় নিজেদের জমি ও অধিকার হারানোর আশঙ্কায় প্রতিবাদ শুরু করে। পরে নাগা সম্প্রদায়ও এই বিরোধের সঙ্গে যুক্ত হলে সংকট আরও গভীর হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









