টানা প্রায় ৫ দিন বিরতির পর ফের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলার চেষ্টার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানে বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের’ এ হামলা শুরু করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) অনুযায়ী রাত ৮টার (বাংলাদেশের স্থানীয় সময় ভোর ৬টা) দিকে শুরু হয়েছে অভিযান।
সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্স পোস্টে বলেছে, মঙ্গলবার জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের দিকে ইরানের গোলাবর্ষণের প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা ছিল ‘শক্তিশালী জবাব’।
বিবিসি লিখেছে, ইরাকে ইরানি মিত্রদের লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো যৌথ হামলার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এর মাধ্যমে যুদ্ধ আরো বিস্তৃতি পেল।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে হামলা চালায়, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, এ অভিযান ‘মাত্র কয়েক সপ্তাহ’ স্থায়ী হবে। কিন্তু পাঁচ মাস ধরে যুদ্ধ চলার পরও এর শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বুধবার অ্যাক্সিওস লিখেছে, ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান বলেছেন, সৌদি আরব উত্তেজনা কমাতে চায়।
বিবিসি লিখেছে, কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আশায় উভয় পক্ষই কয়েকদিন হামলা বন্ধ রেখেছিল। এরপর ট্রাম্প ‘খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা’হওয়ার কথা বললেও তেহরান কোনো ধরনের আলোচনা চলার কথা অস্বীকার করে।
বুধবার নতুন হামলার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প মার্কিন সেনাদলের ওপর আগের দিনের ইরানি হামলা চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তাদের ওপর খুব জোরালো আঘাত হানতে যাচ্ছি, কারণ এবার তাদের ওপর আমাদের আঘাত করার পালা।”
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘শিশু হত্যাকারী আমেরিকান বাহিনীর আগ্রাসনের জবাবে’ জর্ডানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং একটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে।
তারা এও জানিয়েছে, নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আঘাত করেছে।
এসব নৌযান সতর্কবাতা ‘উপেক্ষা’ করে গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় জলপথটির ‘অনিরাপদ এবং অবৈধ পথ’ দিয়ে যাত্রা করেছিল বলে আইআরজিসির ভাষ্য।
টানা ১৩ রাত ধরে ইরানে তীব্র বোমা হামলা শুক্রবার সাময়িকভাবে স্থগিত করেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তারা ইরানের অস্ত্র ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে বহু মানুষের মৃত্যুর খবরও এসেছে।
সেন্টকম মঙ্গলবার জানায়, আগের ৭২ ঘণ্টায় আইআরজিসি পরিচালিত ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে পূর্ব ইরাক জুড়ে ‘সন্ত্রাসীদের রসদ ও অস্ত্রের ঘাঁটিতে’ আঘাত হেনেছে।
ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইরাকের আধা-সামরিক বাহিনী ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ পিএমএফ বলেছে, তাদের ঘাঁটিতে মার্কিন-সৌদি হামলায় অন্তত ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন।
ইরাকি প্রেসিডেন্টের দপ্তর পিএমএফ ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণের নিন্দা জানিয়ে একে ‘অগ্রহণযোগ্য হামলা এবং ইরাকের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন’ বলেছে।
তবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছেন, ‘ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই’ হামলাগুলো চালানো হয়েছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









