জাপানের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে জয়ের পথে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন লিবারাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) তাকাইচির নেতৃত্বে এলডিপি নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা কিয়োদোর করা একাধিক জরিপে দেখা গেছে, জাপানের প্রধান বিরোধী দল সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স এবারের প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন হারাতে পারে। এই জোটটি গঠিত হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে, যখন কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপান (সিডিপিজে) ও কোমেইতো পার্টির নিম্নকক্ষের সদস্যরা একত্রিত হন। উল্লেখ্য, কোমেইতো দলটি গত অক্টোবরে এলডিপির সঙ্গে ২৬ বছরের জোট ভেঙে দেয়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে এলডিপি ২৭৪ থেকে ৩২৮টি আসন পেতে পারে। বর্তমানে দলটির আসন সংখ্যা ১৯৮।
রবিবার সকালে কিছু অঞ্চলে ভারী তুষারপাত সত্ত্বেও সকাল ৭টা (গ্রিনিচ মান সময় শনিবার রাত ১০টা) থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং সন্ধ্যা ৮টা (গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা) পর্যন্ত চলে।
নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন ১০ কোটি ৪০ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার। এর আগে ২৮ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিন ধরে আগাম ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই কোটিরও বেশি ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেন।
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এই নির্বাচনে ৪৬৫টি আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৭০ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটের ফল জাপানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য কোনো দল বা জোটকে কমপক্ষে ২৩৩টি আসন অর্জন করতে হয়।
এই নির্বাচনে ২৮৯টি আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়, আর বাকি ১৭৬টি আসন ১১টি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্লকের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়।
উল্লেখ্য, নতুন জনসমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত মাসে প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









