রাশিয়া বা চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন কৌশল তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন)। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে পারমাণবিক প্রতিক্রিয়ার আরও বেশি বিকল্প রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন কৌশলে দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রের পরিবর্তে স্বল্পপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
পেন্টাগনের নীতি বিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কলবি এই কৌশল তদারকি করছেন। সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাতে রাশিয়া বা চীন যদি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা চালায়, তাহলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে—এই বিষয়টি মাথায় রেখেই কৌশলটি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনবিসি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, কোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে যত বেশি কার্যকর বিকল্প থাকবে, প্রতিরোধ সক্ষমতাও তত শক্তিশালী হবে। প্রেসিডেন্টের হাতে বাস্তবসম্মত পারমাণবিক বিকল্প নিশ্চিত করাই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে, পারমাণবিক অস্ত্র সীমিত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে থাকা ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ প্রায় ছয় মাস আগে শেষ হয়েছে। এরপরই পেন্টাগন নতুন কৌশল তৈরির কাজ শুরু করে।
২০১০ সালে স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং ৭০০টি পারমাণবিক অস্ত্র বহনকারী ব্যবস্থা মোতায়েন করতে পারত। গত ফেব্রুয়ারিতে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হলেও তা আর নবায়ন করা হয়নি।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মস্কো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ওয়ারহেডের সংখ্যা না বাড়ালে তারাও উত্তেজনা বাড়ায়—এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত নিউ স্টার্টের শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে আরও কার্যকর একটি চুক্তি করতে চান তিনি। তবে বেইজিং এ ধরনের আলোচনায় আগ্রহ দেখায়নি।
বর্তমানে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারে প্রায় ৬০০টি ওয়ারহেড রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চীনের অবস্থান হলো, যেসব দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সবচেয়ে বড়, নিরস্ত্রীকরণের দায়িত্ব মূলত তাদেরই নেওয়া উচিত।
এরপর রাশিয়া জানিয়েছে, ভবিষ্যতের কোনো সম্প্রসারিত পারমাণবিক চুক্তিতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
ন্যাটোর ‘নিউক্লিয়ার শেয়ারিং’ ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের কয়েকটি দেশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করে রেখেছে। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছে। মস্কো জানিয়েছে, ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে হামলার পরিকল্পনা তাদের নেই, তবে রাশিয়াকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশে পারমাণবিক অস্ত্র রাখছে, প্রয়োজনে সেসব দেশের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









