রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের নিঝনেকামস্ক শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। হামলায় আরও ৭৫ জন আহত হয়েছেন বলে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাশিয়ায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এটি দেশটির অন্যতম প্রাণঘাতী একক হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিঝনেকামস্ক শহরটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ১ হাজার ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। ইউক্রেন এখনো হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, নিঝনেকামস্কের তানেকো তেল শোধনাগারে হামলা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফায়ারপয়েন্ট দাবি করেছে, তাদের তৈরি এফপি-১ ড্রোন হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাতভর শুরু হওয়া হামলা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এবং সকাল পর্যন্ত এর প্রভাব ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইকৃত ভিডিও ও ছবিতে দিনের বেলায় আকাশে আগুনের শিখা ও ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। পেছনে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেনের শব্দও শোনা যায়।
রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি আবাসিক এলাকাতেও হামলা হয়েছে। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি দাবি করেছে, হামলায় এমন বেসামরিক মানুষও হতাহত হয়েছেন, যাঁদের কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।
তাতারস্তানের প্রধান রুস্তাম মিনিখানভ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। নিঝনেকামস্কের মেয়র রাদমির বেলায়েভ ঘটনাটিকে ‘সবার জন্য গভীর বেদনার’ বলে উল্লেখ করেছেন। হামলার পর তাতারস্তানে শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি, শিল্প ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিসইনফরমেশনের প্রধান আন্দ্রি কোভালেঙ্কো বলেন, রাশিয়ার যেসব স্থাপনা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হামলা, অস্ত্র উৎপাদন ও যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করে, সেগুলোই হামলার লক্ষ্য।
রাশিয়ার দাবি, একই রাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৫০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে জ্বালানি অবকাঠামো, গুদাম ও সামরিক সরবরাহকেন্দ্রগুলোকে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে রাশিয়াও নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের শহর ও আবাসিক এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে কিয়েভে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২১ জন নিহত হন। ফ্রন্টলাইনের কাছে খারকিভে রুশ গোলাবর্ষণে আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
ফলে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি দূরপাল্লার হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। তাতারস্তানে সর্বশেষ হামলা যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









