দক্ষিণ আফ্রিকায় খনির বর্জ্যের স্তূপ ধসে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই অবৈধভাবে খনির কাজ করছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অজ্ঞাতসংখ্যক শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৯ আগস্ট) রাতে দেশটির একটি খনি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর্থার অ্যাডামস।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলটি একটি বৈধ খনন কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে প্লাটিনামসহ বিভিন্ন ধাতু উত্তোলনের কাজ চলছিল। তবে কীভাবে অবৈধ খনিশ্রমিকরা ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
পুলিশ কর্মকর্তা আর্থার অ্যাডামস স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজরুম আফ্রিকাকে বলেন, খনির বর্জ্য ফেলার জায়গাটির দেয়াল ধসে পড়ে শ্রমিকদের ওপর। এতে ঘটনাস্থলেই অনেকে মারা যান এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই প্রতিবেশী দেশ লেসোথোর নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই নথিপত্রবিহীন বিদেশি নাগরিক।
আহত আটজনের মধ্যে তিনজনকে চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে খনির কাজ করা এবং অনুমতি ছাড়া খনি এলাকায় প্রবেশের অভিযোগ আনা হতে পারে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ খনন একটি বড় সমস্যা। দেশটিতে অবৈধ খনিশ্রমিকদের স্থানীয় ভাষায় ‘জামা জামা’ বলা হয়। জুলু ভাষায় শব্দটির অর্থ হলো ‘যারা ভাগ্য পরীক্ষা করে’ বা ‘যারা চেষ্টা করে’। এসব শ্রমিক সাধারণত পরিত্যক্ত খনির সুড়ঙ্গ, পুরোনো খনি এলাকা কিংবা খনির বর্জ্যের স্তূপে মূল্যবান ধাতু খুঁজে বেড়ান। বিশেষ করে পরিত্যক্ত খনির সুড়ঙ্গে ধস, বিষাক্ত গ্যাস এবং অক্সিজেনের অভাবে শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ খনিশ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। গত বছরের জানুয়ারিতে জোহানেসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে স্টিলফন্টেইনের একটি পরিত্যক্ত খনির সুড়ঙ্গ থেকে ৭৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই শ্রমিকরা একটি পুরোনো খনিতে আটকা পড়েছিলেন। অবৈধ খনন বন্ধ করতে দেশজুড়ে পুলিশের অভিযান চলার সময় তারা সেখানে আটকা পড়েন।
তবে এসব পুরোনো খনিতে এখনো সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই আশাতেই দরিদ্র ও নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত খনিতে প্রবেশ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









