হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ও বাণিজ্যে চাপ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে তেলের চাহিদাতেও। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বলছে, চলতি বছর বিশ্বে তেলের চাহিদা আগের ধারণার চেয়েও বেশি কমতে পারে।
বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে আইইএ জানায়, ২০২৬ সালে বিশ্বে প্রতিদিন তেলের চাহিদা ১৬ লাখ ব্যারেল কমতে পারে। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় এই পতনের পরিমাণ ৫ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল বেশি। জ্বালানির উচ্চ দাম ভোক্তাদের তেল ব্যবহার কমাতে বাধ্য করছে। তবে বছরের শেষ প্রান্তিকে চাহিদা আবার বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে আছে। এর মধ্যে নতুন করে সংঘাত ও সমুদ্রপথে বাধা বিশ্বে তেল সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। জুলাইয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ এক বছর আগের তুলনায় প্রতিদিন ৬৩ লাখ ব্যারেল কম ছিল।
এ কারণে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। গত মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল, আবার প্রায় ৭০ ডলারেও নেমেছিল। সর্বশেষ দাম ৯০ ডলারের নিচে ছিল।
এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের মজুত দ্রুত কমছে। জুলাইয়ে বৈশ্বিক তেলের মজুত ৭৯০ কোটি ব্যারেলের নিচে নেমে যায়, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩০ কোটি ব্যারেলের নিচে নেমেছে। আইইএ সতর্ক করেছে, মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়া আরও জরুরি হয়ে পড়েছে।
তেলের দাম ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও পড়ছে। জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন








