রাশিয়ার সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইউক্রেনের খুচরা বাজারের খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী তারাস ভিসোৎস্কি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কিয়েভে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য তিনি জানান।
ইউক্রেনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইউক্রিনফর্মের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের অর্থনীতি ও পণ্য সরবরাহব্যবস্থার ওপর হামলা আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে বড় সুপারমার্কেট, গুদাম, ডাক ও কুরিয়ার সেবা এবং বিভিন্ন পণ্যের সংরক্ষণকেন্দ্র এসব হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
ভিসোৎস্কি বলেন, খুচরা বিক্রেতাদের খাদ্য সরবরাহের প্রায় ৯০ শতাংশ লজিস্টিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইউক্রেনের মানুষ খাবার ছাড়া থাকবে।
যুদ্ধের পঞ্চম বছরে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের অর্থনীতি এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে। খাদ্য সরবরাহব্যবস্থায় সাম্প্রতিক হামলার প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও দেখা যাচ্ছে।
কিয়েভের কয়েকটি সুপারমার্কেটে সাম্প্রতিক সময়ে তাজা ফল, সবজি, চিনি, দুধ ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য সাময়িকভাবে পাওয়া যায়নি। খাদ্যপণ্যের গুদাম ও সরবরাহকেন্দ্রে রুশ হামলার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
গুদাম, দোকান ও কুরিয়ার কেন্দ্রেও হামলা
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি বলেছেন, গত দুই দিনে রাশিয়া প্রায় বিরতিহীনভাবে জেটচালিত ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলেই পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন।

তিনি জানান, গত এক দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন।
ভিসোৎস্কির অভিযোগ, রাশিয়া সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, খাদ্যগুদাম, বড় বিপণিবিতান, ডাক ও কুরিয়ার টার্মিনাল এবং বইয়ের গুদামেও হামলা চালাচ্ছে।
শুক্রবার কিয়েভ অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় এক ডজনের বেশি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো।
ইউক্রেনের বড় বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান নোভা পোশতার কিয়েভের কাছে ও উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমিতে থাকা কয়েকটি বাছাই ও সরবরাহকেন্দ্রও হামলায় ধ্বংস হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় একটি বড় নির্মাণ ও গৃহস্থালি পণ্যের দোকানে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের একটি শপিং সেন্টারেও হামলা হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে সেখানে এটি দ্বিতীয় হামলা বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র ইহোর তেরেখভ।
শুক্রবার কিয়েভ অঞ্চলে বড় একটি বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের গুদামেও ড্রোন হামলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রতিদিন হাজার হাজার বই ওই গুদাম থেকে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো।
বৃহস্পতিবার কিয়েভ ও ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রাশিয়ার দীর্ঘ সময়ের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর শুক্রবারও বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজতে থাকে।
ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের অধীন বিভ্রান্তি মোকাবিলা কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রি কোভালেঙ্কো বলেছেন, রাশিয়া ছোট ছোট দলে জেটচালিত ড্রোন পাঠাচ্ছে। তার দাবি, এর উদ্দেশ্য কিয়েভকে কার্যত অচল করে দেওয়া।
কোভালেঙ্কোর মতে, হামলার আরেকটি লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করা।
হামলার প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগেও। বৃহস্পতিবারের হামলার কারণে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের বিলম্ব হয়। অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় আটকে পড়েন। শুক্রবার ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, ট্রেনের বিলম্ব ধীরে ধীরে কমছে। তবে ঘন ঘন হামলা ও বিমান হামলার সতর্কতার কারণে এর প্রভাব অন্তত আরও এক দিন থাকতে পারে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বৃহস্পতিবার কিয়েভ প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিমান হামলার সতর্কতার মধ্যে ছিল।
এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন অর্থনৈতিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোয় দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই পক্ষের হামলা ক্রমেই সামরিক স্থাপনার বাইরে বাণিজ্য, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর ছড়িয়ে পড়ায় যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতিও আরও গভীর হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









