সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য জনগণকে বিভ্রান্ত না করতে বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধীদলের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, তারা ৫ তারিখের পর লংমার্চে যাবে এবং লংমার্চে যে পরিবহন ব্যবহার করবে, সেখানে ১ লাখ লিটার তেল তারা ব্যবহার করবে। জ্বালানির যদি সমস্যাই হয়, তাহলে বিরোধীদল এই ১ লাখ লিটার তেল কোথায় পাবে? নিশ্চয়ই তেলের সমস্যা নাই এবং তেলগুলো তারা গাড়িতে উঠিয়েই লংমার্চে যাবে।’’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গত ২৫ আগস্ট জানিয়েছেন, ছয় দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।
তার ঘোষণামতে, ওই দিন সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এতে অন্তত এক হাজার গাড়ি যুক্ত হবে এবং পথে আরও গাড়ি বহরে যোগ দেবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নয়টি জেলা ও মহানগরীর জামায়াতের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পথে ছয়-সাতটি স্থানে শীর্ষ নেতাদের পথসভা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
লংমার্চের ছয়টি দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
বিরোধীদলের রাজপথের কর্মসূচি ও লংমার্চ নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে মীর শাহে আলম বলেন, বিরোধীদলের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি মোকাবিলার প্রয়োজন নেই। তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করলে সরকার সহযোগিতা করবে, কারণ এটি একটি গণতান্ত্রিক সরকার।
তবে তিনি বলেন, ‘‘মঞ্চের পেছনে ফ্যান চালিয়ে আপনি যদি বলেন যে, বিদ্যুৎ নাই দিতে হবে—এই জিনিসটা সাধারণ মানুষকে বিবেচনা করতে হবে।’’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে সাময়িক সমস্যার জন্য জনগণের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছে।
শাহে আলম জানান, চলতি সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন। তখন সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জাতির কাছে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যা বললেন
চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্স সংসদে আইন হিসেবে পাস হয়েছে।
নতুন আইনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন এবং জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণ প্রতীকে এবং নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে কোনো না কোনো প্রার্থীকে দলীয়ভাবে সমর্থন দেবে বলেও জানান তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার গুলশান কার্যালয়ে দলের জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বলেও জানান শাহে আলম।
তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা বিএনপি ঠিক করবে ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে কাকে সমর্থন দেওয়া হবে।
গত ১৭ বছর দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা ব্যক্তিরা দলীয় সমর্থনে অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, যারা মাঠে ছিলেন, মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের ভোটে জয়ী হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের সমর্থনের বিষয়ে দলের নির্দেশনা রয়েছে।
অন্যদিকে আন্দোলনে অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচনের মাঠে অভিজ্ঞতা কম—এমন প্রার্থীদের অন্য জায়গায় সুযোগ দেওয়া হতে পারে, তবে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থন নাও দেওয়া হতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একইভাবে ভোটের মাঠে অভিজ্ঞতা থাকলেও গত ১৭ বছর দলের আন্দোলনে যাদের দেখা যায়নি, তাদেরও সমর্থন না দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করা হবে না জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে—স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে সরকার কোনো প্রভাব বিস্তার করবে না।
তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে শতভাগ সহযোগিতা করবে। কোনোভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতার বাইরে যেতে দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ নজর থাকবে।
দলীয় সমর্থনের বাইরে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হলে তাকে বহিষ্কার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে। কেন্দ্র থেকে যেহেতু মনোনয়ন বা সমর্থন দেওয়া হচ্ছে না, তাই কেন্দ্র থেকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









