চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সম্মানে আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান উপস্থিত থাকবেন বলে শুক্রবার একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি খুবই জনপ্রিয় এবং কাক্সিক্ষত একটি অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে।’
তিনি জানান, নৈশভোজে আরও উপস্থিত থাকবেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, অ্যাপলের প্রধান টিম কুক এবং গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই।
প্রযুক্তি খাতের এসব শীর্ষ ব্যক্তির উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সি চিন পিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বিশ্বের দুই প্রধান শক্তি।
যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ে আলোচনার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে এই উদ্বেগ যে, দেশটির শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠান—ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, গুগল ও মেটা—উদ্ভাবনের গতি কমাতে পারবে না। কারণ, তারা আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র ধীরগতির হলে চীন প্রযুক্তিগত দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারে।
একসময় অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পিছিয়ে থাকা চীন দ্রুত সেই ব্যবধান কমিয়ে আনছে।
চীনের এআই অগ্রগতি ধীর করতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে উন্নত প্রযুক্তির চিপ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। অত্যাধুনিক এআই ব্যবস্থা তৈরিতে প্রয়োজনীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর, বিশেষ করে এনভিডিয়ার তৈরি উন্নত চিপের ক্ষেত্রে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে ওয়াশিংটন।
যত দ্রুত সম্ভব এগিয়ে যেতে হবে-
দুই দেশের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা সত্ত্বেও, সি জিন পিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে বৈঠকে প্রযুক্তি বিষয়ে কোনো একটি বিষয়ে অন্তত দুই পরাশক্তি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে—এমন আশা এখনো রয়েছে।
তবে এআই উন্নয়নের গতি কমানো বা বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা বিধি তৈরির মতো বড় কোনো উদ্যোগে দুই দেশ একমত হতে পারবে—এমন সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।
এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বিধি তৈরির দাবি জোরালো হয়েছে প্রযুক্তি খাতের ভেতর থেকেই আসা বিভিন্ন সতর্কবার্তার কারণে।
অ্যানথ্রপিকের সাবেক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন সম্প্রতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেন। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি যারা তৈরি করছেন, তাদের কেউ কেউ সত্যিই বিশ্বাস করেন যে, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতির জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে, এমনকি সবাইকে ধ্বংসও করতে পারে।
এরপর অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে এআই উন্নয়নে সতর্কতা এবং গতি কমানোর আহ্বান জানান।
স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কও এই ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান ডেমিস হাসাবিসও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এআই প্রযুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে এআই নিয়ে নিরাপত্তার আশঙ্কাকে ‘ভিত্তিহীন প্রচারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকতে মার্কিন এআই কোম্পানিগুলোকে উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াংয়ের বক্তব্যও অনেকটা একই ধরনের।
শুক্রবার সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের প্রকাশিত অংশে হুয়াং বলেন, ‘অন্যরা কী করছে তা বিবেচনা না করেই আমাদের যত দ্রুত সম্ভব এগিয়ে যাওয়া উচিত।’
তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, এনভিডিয়া কখনোই প্রস্তুত হওয়ার আগে কোনো পণ্য বাজারে ছাড়বে না বা অনিরাপদ কোনো পণ্য সরবরাহ করবে না।
হুয়াং বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব এগোব। কিন্তু কোনো পণ্য প্রস্তুত হওয়ার আগে তা বাজারে ছাড়ব না এবং অনিরাপদ পণ্যও সরবরাহ করব না। কেউই আমাদের কাছে তা আশা করছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে সবাই আশা করছে, আমরা সফল হব এবং আমেরিকাকে যতটা সম্ভব সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করব।’
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের নীতিনির্ধারকেরা এআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ঝুঁকিগুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ডিপফেক, শিশুদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়।
তবে চীনের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান চলতি সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছেন, এআই প্রযুক্তি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
সূত্র: এএফপি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









