গাজায় গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই বলেছেন, সত্য কথা বলতে সাহসের প্রয়োজন কেন, তা তিনি বুঝতে পারেন না। আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়াই তার দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার খবর জানার পর সহকর্মীদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন ৮৫ বছর বয়সী পিল্লাই। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক আইন শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
নুরেমবার্গে মানবাধিকারকর্মী ও সহকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানকালে পুরস্কারের খবর পান পিল্লাই। শুরুতে খবরটি সত্য কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। পরে উপস্থিত ব্যক্তিরা হাততালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।
হাস্যরসের ছলে পিল্লাই বলেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু বেশি হাততালি দেন, তাহলে হয়তো এই পুরস্কার ট্রাম্পের সাথে ভাগ করে নিতে পারি।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছেন।
পিল্লাই বলেন, কোনো পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সমর্থন তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ যদি মনে করেন কেউ পুরস্কারের যোগ্য, তবেই সেই সম্মানের প্রকৃত মূল্য থাকে। তাই উপস্থিত ব্যক্তিদের হাততালিকে তিনি বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন।
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে পিল্লাই বলেন, সেখানে যা ঘটছে, তাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অনেকে তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তবে তার মতে, আইন ব্যাখ্যা করা, তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা এবং নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন বিচারকের কাজ। এ জন্য আলাদা করে সাহসের প্রশংসা পাওয়ার বিষয়টি তাকে অবাক করেছে।
৮৫ বছর বয়সেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পিল্লাই। তিনি জানান, এখনো অস্থায়ী বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকে তাকে কাজ বন্ধ করার বিষয়ে প্রশ্ন করলেও মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে পিল্লাই আবারও সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি পুরস্কার পাওয়ার খবরটি যে নিছক রসিকতা নয়, তা নিশ্চিত হওয়ার আশাও প্রকাশ করেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









