প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় ৯৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি শংকর নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের জন্ম অবিভক্ত যশোর জেলার বনগ্রামে বা বনগাঁয় ১৯৩৩ সালের ৭ ডিসেম্বর। তার বাবা হরিপদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন নামী আইনজীবী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেই শংকরের পরিবার এসেছিল কলকাতায়।
প্রখ্যাত এই সাহিত্যিক বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন ব্রেন টিউমারে। গত ডিসেম্বর মাসে বাড়িতে পড়ে গিয়ে কোমরে চোট পেয়ে হাড় ভেঙে যায়। এরপর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু ১৫ দিন আগে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নেওয়া হয় কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে শেষবিদায় নেন তিনি।
শংকরের কালজয়ী উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ হলো চৌরঙ্গী, সীমাবদ্ধ, জনঅরণ্য, কত অজানারে, চরণ ছুঁয়ে যাই, বিবেকানন্দ, অচেনা অজানা, দ্বিতীয় পুরুষ, মণিহার, পিকলুর কলকাতা ভ্রমণ ইত্যাদি। চৌরঙ্গী, সীমাবদ্ধ ও জনঅরণ্য নিয়ে চলচ্চিত্র হয়েছে। তিনি কলকাতার শেরিফ ছিলেন। করেছেন সরকারি চাকরিও।
মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ কলকাতার কবি–সাহিত্যিক থেকে বিশিস্টজনেরা। শংকরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কলকাতার শিল্প–সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে।
মমতা তার শোকবার্তায় লিখেছেন, ‘প্রখ্যাত সাহিত্যিক শংকরের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আজ বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। চৌরঙ্গী থেকে কত অজানারে, সীমাবদ্ধ থেকে জনঅরণ্য, তার কালজয়ী সৃষ্টিগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে। তার লেখনীর মধ্যে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবন–সংগ্রামের নানা কথা।’
মৃত্যুর আগে শংকর শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, মৃত্যুর পর মরদেহ নিয়ে যেন কোনো শোক মিছিল না হয়, সেটি ছিল তার ইচ্ছা। হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ যেন সোজা কেওড়াতলা মহাশ্মশানে নিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









