কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ।
শনিবার বিকেলে আলবার্টার ওয়েনরাইট শহরের কাছে কানাডীয় সামরিক ঘাঁটি ওয়েনরাইটে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর সেখানে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামরিক স্থাপনা ছাড়িয়ে আশপাশের গ্রামীণ এলাকাতেও পৌঁছে যায়।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চার সেনাসদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিস্ফোরণ ও পরবর্তী ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আরও বহু সেনাসদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত চার সেনাসদস্য হলেন সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফ্যারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং ও প্রাইভেট হেইডেন লাইকেমার্ক। কানাডা সরকারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়। একই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর আরও ৩৯ সদস্য আহত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি ঘটনাটিকে শান্তিকালীন সময়ে কানাডার ভূখণ্ডে দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই গুরুতর দুর্ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হলো, তা জানতে তার কার্যালয় তথ্য সংগ্রহ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি হতাহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।
কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি শনিবার রাতে সামরিক ঘাঁটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনার কথা তার মনে পড়ে না। বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সক্রিয় ও সংবেদনশীল বলে বর্ণনা করেন।
রবিবার কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, বিস্ফোরণটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে ঘটেছে—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

তবে কানাডার একাধিক সশস্ত্র বাহিনীর সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউজকে জানিয়েছে, গোলাবর্ষণসহ সরাসরি যুদ্ধের অনুশীলন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গ্যাসের পাইপলাইন অথবা গ্যাসকূপে আঘাত লাগার পর আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে সামরিক কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ নিশ্চিত করেনি।
আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে গুরুতর ও মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন।
ন্যাটোর সামরিক কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল জিউসেপ্পে কাভো দ্রাগোন বলেন, কানাডা একা এই শোক বহন করছে না। ন্যাটোর ৩২টি মিত্র দেশের প্রতিরক্ষা প্রধানেরা কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর পাশে রয়েছেন।
কানাডার অন্যতম বৃহৎ ও ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র ওয়েনরাইট ঘাঁটিতে সেনাদের যুদ্ধ পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখানে অবস্থিত কানাডীয় ম্যানুভার প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বাস্তবসম্মত যুদ্ধক্ষেত্রের অনুশীলন পরিচালিত হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









