অস্ট্রেলিয়ার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা।
সোমবারের (১৯ অক্টোবর) ওই হামলায় হেইনসের একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। তার অন্য পা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন চিকিৎসকেরা।
অভিযুক্ত ব্রেন্ডন নুজেন্ট (৪৩) নিজের টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি দিয়ে হেইনসকে দুবার চাপা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মেলবোর্নের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওয়ানগারাটায় নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ের বাইরে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার অস্ট্রেলীয় পুলিশ জানায়, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকেই নুজেন্টকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আঘাত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করা এবং সরকারি কর্মকর্তার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং বুধবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযুক্তের বাবা রড নুজেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে হেইনসের ২০ বছরের বন্ধুত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, হেইনস তাদের স্থানীয় সম্প্রদায়ের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় একজন মানুষ। তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা মেনে নেওয়া কঠিন। এ ঘটনায় পুলিশকে তদন্তে সহযোগিতা করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, নির্বাচনী এলাকায় একটি কুকুর পার্ক উদ্বোধনের অনুষ্ঠান শেষে নিজের কার্যালয়ের বাইরে গাড়ি থেকে জিনিসপত্র নামাচ্ছিলেন হেইনস। এ সময় সাদা রঙের ল্যান্ডক্রুজারটি তাঁকে চাপা দেয়। পরে গাড়িটি পেছনে নিয়ে আবারও তাকে আঘাত করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাপিত রিকি জেফ্রিস গাড়ি থেকে নুজেন্টকে বের করে পুলিশ আসা পর্যন্ত আটকে রাখেন। তার ভাষ্য, অভিযুক্তের পকেটে একটি ছুরি ছিল। তবে তিনি সেটি বের করেননি। পরে জেফ্রিস ছুরিটি সরিয়ে ফেলেন। আহত হেইনসকে উপস্থিত লোকজন প্রাথমিকভাবে ব্যান্ডেজ করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে তাঁকে মেলবোর্নের আলফ্রেড হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। পরিবেশবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী নুজেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবেশবাদী অবস্থানের জন্য হেইনসের প্রশংসা করেছিলেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের ভূমিকার সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। হামলার আগে তাকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কোনো গোয়েন্দা তথ্য পুলিশের কাছে ছিল না বলে জানিয়েছেন ভিক্টোরিয়া পুলিশের এক কর্মকর্তা।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ ঘটনাকে দেশের জন্য ‘একটি অন্ধকার ও ভয়াবহ দিন’ বলে বর্ণনা করেছেন। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে হুমকি বাড়ছে। গত অর্থবছরে অস্ট্রেলীয় রাজনীতিবিদেরা ১ হাজার ৬৭টি হুমকির মুখে পড়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে।
২০১৯ সালে নির্বাচিত হেইনস স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে কাজ করেছেন। ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা নিয়েও তিনি একাধিকবার কথা বলেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









