সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পৃথক দুটি ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশটির জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা শায়বাহ তেলক্ষেত্রের প্রসেসিং প্লান্টে ড্রোন হামলার ঘটনায় ধ্বংসাবশেষের আঘাতে দুই কর্মী নিহত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, “এই হামলা প্রচেষ্টায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, তাদের একজন ফিলিপিনো ও অপরজন নেপালি। পাশাপাশি আরও দুইজন আহত হয়েছেন।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বুধবার সকালে ড্রোনটি প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ শায়বাহ তেলক্ষেত্রের সীমানার বাইরে এক ঠিকাদারের মালিকানাধীন একটি গাড়ির ওপর পড়লে সেটিতে আগুন ধরে যায়। তবে এতে স্থাপনাটির কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
এ ঘটনায় আহত দুজনের একজন পাকিস্তানের ও অপরজন ভারতের নাগরিক।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার দাম্মামের বাদশা ফাহাদ বিমানবন্দরে এক হামলায় একজন নিহত ও আরও আটজন আহত হয়েছেন।
আহতদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক।
পৃথকভাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের উপর থেকে চারটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার জোট বাহিনী সৌদি আরব লক্ষ্য করে ছোড়া সাতটি ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল। যেগুলোর মধ্যে একটি মদিনা অঞ্চলে ধ্বংস করা হয় বলে দাবি করেছে তারা।
এদিন সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালকি এক্সে এক পোস্টে বলেন, “সৌদি আরবের দিকে ছোড়া চারটি ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।”
আল অ্যারাবিয়া জানিয়েছে, এরপর দ্বিতীয় আরেক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও মদিনায় ঘটনাগুলো ঘটেছে।
এরপর পৃথক আরেক পোস্টে তিনি জানান, পূর্বাঞ্চলে আরও একটি ড্রোন প্রতিহত করেছেন তারা।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জোট বাহিনী জানায়, তারা দক্ষিণাঞ্চলের দিকে হুতিদের ছোড়া ষষ্ঠ ড্রোন ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে ছোড়া সপ্তম ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার ইয়েমেনের হুতিরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের পবিত্র শহর মদিনার দিকে কোনো ড্রোন ছোড়েনি তারা আর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানও পরিচালনা করেনি।
ইয়েমেনের সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী পূর্বাঞ্চল ও মদিনায় ড্রোন ধ্বংসের যে দাবি করেছিল তা প্রত্যাখ্যান করেছেন হুতিদের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী হুতি মিলিশিয়াদের সঙ্গে লড়াই করছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই লড়াই তীব্র আকার ধারণ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের আরেকটি রণক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









