সুদানের উত্তর কর্দোফান রাজ্যের বারায় ৬০০টির বেশি মরদেহ সংগ্রহ করে দাফন করেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। তবে শহর ও আশপাশের এলাকায় এখনো শত শত মরদেহ পড়ে আছে। দীর্ঘদিন খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় ছড়িয়ে পড়ছে রোগের আশঙ্কা, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী এসব মরদেহ সংগ্রহ ও দাফনের কাজে অংশ নেন। তাদের দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবরে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) প্রতিশোধমূলক হামলায় অধিকাংশ মানুষ নিহত হন।
বারার সড়ক, চত্বর, বাড়িঘর এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে মরদেহ ছড়িয়ে ছিল। স্বেচ্ছাসেবীদের একজন জানান, এলাকায় ২০০টি গণকবর খুঁড়ে সেখানকার মরদেহগুলো যথাযথভাবে দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৪০০টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। তবে গেরাইগিখ, জাবরাত আল-শেখ ও উম সায়ালাসহ আশপাশের এলাকায় এখনো বহু মরদেহ পড়ে রয়েছে।

বারা প্রতিরোধ কমিটির নেতা আবদুল রহমান বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, বারার আশপাশের শতাধিক গ্রামে আরএসএফের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার কারণে এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হয়েছে।
প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক মাস ধরে খোলা জায়গায় পড়ে থাকা মরদেহের অনেকগুলো পচে গেছে, কিছু পরিণত হয়েছে কঙ্কালে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের দেহাবশেষ সংগ্রহ করে পুরোনো গাড়ি ও পিকআপে তুলে সম্মিলিতভাবে দাফন করেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
এক স্বেচ্ছাসেবীর ভাষায়, ‘বারায় এখন আর কোনো প্রাণ নেই।’ তার দাবি, বিপুলসংখ্যক মরদেহের কারণে পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়েছে এবং অজানা রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। মরদেহ দাফনের পাশাপাশি জীবাণুমুক্তকরণের কাজও চলছে। তবে জ্বালানি, দস্তানা, মাস্ক, জীবাণুনাশক ও মরদেহ বহনের ব্যাগের সংকট রয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও প্রবাসীদের অর্থায়নে কাজটি চলছে; রেড ক্রিসেন্ট ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মূলত ব্যাগ সরবরাহ করেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। জাতিসংঘের হিসাবে, ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে; নিহতের সংখ্যা অন্তত দেড় লাখ বলে ধারণা করা হয়। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। দারফুরে গণহত্যার দায়েও আরএসএফকে দায়ী করা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে আরএসএফকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যদিও আবুধাবি তা অস্বীকার করে। অন্যদিকে তুরস্ক ও মিসর সুদানের সেনাবাহিনীকে সামরিক সহায়তা দেয়। সম্প্রতি উত্তর কর্দোফানে সেনাবাহিনী কয়েকটি এলাকা পুনর্দখল করেছে এবং পশ্চিম কর্দোফানের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করছে। অঞ্চলটি আরবি গাম উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; একসময় বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি গাম আরবি এখানকার এলাকাগুলোতে উৎপাদিত হতো।
এদিকে আরএসএফ রাজধানী খার্তুম, ওমদুরমান, আতবারা, কোস্তি ও এল-ওবেইদসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও এখনো কার্যকর অগ্রগতি নেই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









