ইসরাইলের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও ক্ষমতায় থাকবেন, নাকি বিরোধী দলগুলো সরকার গঠনের সুযোগ পাবে। ভোটের দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশটিতে ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ১৯৭৩ সালের পর একই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে ভোটগ্রহণ শেষে চূড়ান্ত ভোটের হার এবং তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরাইলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ইসরাইলের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ৩২ লাখ ৯০ হাজার ভোটার ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে একই সময় পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটের প্রাথমিক হার বেশি ছিল।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরাইলে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের অংশ ১৫ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর থেকে পাঁচ লাখের বেশি ইসরাইলি ভোট দেওয়ার বয়সে পৌঁছেছেন। তবে নির্বাচনে বাস্তবে কতজন তরুণ ভোট দিয়েছেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য চূড়ান্ত সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
ইসরাইলের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করবে। এসব জরিপে দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও তা চূড়ান্ত ফল হিসেবে বিবেচিত হবে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোট গণনার চূড়ান্ত হিসাব ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। আর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ ৪ নভেম্বর।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ দল এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে রয়েছে লিকুদ, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন বিয়াহাদ এবং ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন ইয়েশ আতিদ। তবে কোন দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ইসরাইলের সংসদে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। দেশটির সংসদীয় ব্যবস্থায় সাধারণত একাধিক দলের সমন্বয়ে সরকার গঠিত হয়। ফলে কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে ছোট দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণের হার, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বিরোধী দলগুলোর জোট গঠনের সক্ষমতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। চূড়ান্ত আসনসংখ্যা প্রকাশের পরই সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









