স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে দেশটির তোলেদো প্রদেশের উর্দা এলাকার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিবিসির লাইভ প্রতিবেদন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় রেনফে ও ইরিও পরিচালিত দুটি দ্রুতগতির ট্রেনে সংঘর্ষ। ট্রেন দুটি মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় সেভিলের দিকে যাওয়ার পথে একই রেলপথে চলছিল। একপর্যায়ে একটি ট্রেন থেমে থাকা অন্য ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ইরিওর ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢালে পড়ে যায়।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রেন দুটিতে পাঁচ শতাধিক যাত্রী ছিলেন। সংঘর্ষের পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মী, দমকল বাহিনী, পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলার সময় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৪ জনে দাঁড়ায়।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা।
মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া রেল চলাচল বন্ধ
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে আন্দালুসিয়া অঞ্চলের মধ্যে দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই রুটের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেন চলাচল স্থগিত থাকবে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি ট্রেনের পেছনে অন্য ট্রেনের ধাক্কা লাগার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে সংকেতব্যবস্থা, রেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য মানবিক ভুলের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নয় মাসের ব্যবধানে আবারও বড় দুর্ঘটনা
স্পেনে দ্রুতগতির রেলপথে এ দুর্ঘটনা দেশটির রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় আদামুজ এলাকায় আরেকটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। একই রেলপথে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা রেল অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









