চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন (পঞ্চম প্লেনাম) শেষে বৃহস্পতিবার ৩৩ জন সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দলটির ইতিহাসে এক অধিবেশনে এত বেশি সদস্য বহিষ্কারের ঘটনা নজিরবিহীন।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী এই অধিবেশনে কেন্দ্রীয় কমিটির মোট ৩৭৬ জন পূর্ণ ও বিকল্প সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২৭৯ জন। অর্থাৎ, ২০২২ সালে দায়িত্ব পাওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির এক-চতুর্থাংশেরও বেশি সদস্য এবার অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের অনেকেই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কারণে পদ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আধুনিক চীনের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো প্লেনামে এত বেশি আসন ফাঁকা থাকার ঘটনা আগে দেখা যায়নি।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন চীনের সামরিক বাহিনীর সাবেক দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা ঝ্যাং ইউশিয়া এবং জিনজিয়াং অঞ্চলের সাবেক কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান মা শিংরুই। তবে অন্য যেসব সদস্য অধিবেশনে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানকে শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন শি চিনপিং। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অভিযান আরও বিস্তৃত হয়েছে। দল ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এর আওতায় পড়ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেওয়া এবং নেতাদের আনুগত্য নিশ্চিত করার হাতিয়ার হিসেবেও এই অভিযান ব্যবহৃত হতে পারে।
শি চিনপিংয়ের অধীনে চীনের সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সাত সদস্যের এই কমিশনে বর্তমানে রয়েছেন মাত্র দুজন—প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং সামরিক বাহিনীর দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ঝ্যাং শেংমিন।
চলতি সপ্তাহে ঝ্যাং শেংমিনকে কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা পলিটব্যুরোর সদস্য করা হয়েছে। ফলে পলিটব্যুরোর শীর্ষ নেতৃত্বে তিনিই এখন একমাত্র সামরিক প্রতিনিধি।
আগামী ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২১তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি পাঁচ বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পুনর্গঠন করা হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, শি চিনপিং সেখানে দলের প্রধান হিসেবে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
এতে তিনি মাও সে তুংয়ের পর কমিউনিস্ট চীনের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা নেতা হয়ে উঠতে পারেন।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দল ও সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযানের কারণে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি দলের প্রতিটি স্তরে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী করাই শি চিনপিংয়ের বর্তমান অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









