ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির উদ্যোগ নতুন করে শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করেই তাদের এই সফর বলে আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহেরা পৌছেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, রবিবার তেহরানের কাছে একটি খসড়া শান্তি পরিকল্পনা হস্তান্তর করেছিল দোহা। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রস্তাবগুলোকে অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবে তেহরান।
আলোচনা কোথা থেকে শুরু হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু রাখতে চায়। অন্যদিকে ইরানের দাবি, আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটির ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের উপায় খুঁজতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে তেহরান।
এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উদ্যোগ চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে ছিল। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো ওই যোগাযোগকে দুই দেশের আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করেছিল।
ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান তেহরানের
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়িকে পাঠানো জেডি ভ্যান্সের চিঠি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছে তেহরান। বৃহস্পতিবার আল মায়াদিনকে দেওয়া বক্তব্যে এ দাবি করেন ইরানের এক অবহিত সূত্র।
সূত্রটি জানায়, চিঠি বিনিময়কে আলোচনায় অগ্রগতি কিংবা ইরানের অবস্থান থেকে সরে আসা হিসেবে তুলে ধরার মার্কিন প্রচার সঠিক নয়। উপযুক্ত সময় মনে করলে তেহরান চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ করবে। ওই সূত্র আরও জানায়, ওয়াশিংটন একসঙ্গে সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত ইরান নতুন কোনো পদক্ষেপ নেবে না। ধাপে ধাপে এসব শর্ত বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। শর্তগুলো পূরণ হওয়ার আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া কিংবা নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনাও নেই।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— যুদ্ধ বন্ধ করা, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে; জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় করা; নৌ ও তেল অবরোধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার; ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী সরিয়ে নেওয়া; যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও অপমানজনক বক্তব্য বন্ধ করা।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ইরানি সূত্রটি বলেছে, যুদ্ধকে সফল হিসেবে তুলে ধরতে এবং ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করতে ওয়াশিংটন এই বিষয়টিকে সামনে আনছে। সূত্রটির প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দাবি করে থাকে যে তারা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করেছে, তাহলে এখনো কেন সেই উপাদান নিয়ে দাবি জানাচ্ছে?
মধ্যস্থতাকারীদের উদ্দেশে ওই সূত্র বলেছে, মধ্যস্থতার নীতির মধ্যে থেকেই তাদের কাজ করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে মধ্যস্থতাকারীদের ব্যবহার করা উচিত নয়। তেহরান এমন ভূমিকা মেনে নেবে না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









