যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনা থেকে ইরানি প্রতিনিধিরা চলে গেছেন। তবে আলোচনায় কোনো জটিলতার কারণে তারা দোহা ছাড়েননি। এদিকে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে প্রচার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকও হতে পারে বলে জানিয়েছেন আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা।
সোমবার (২ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা জানান, রবিবার ইরানি প্রতিনিধিরা দোহা ছাড়েন। তবে খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আলোচনার ভিত্তি হচ্ছে সেপ্টেম্বরে তেহরানের তৈরি সাত দফা পরিকল্পনা। এর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। নতুন চুক্তির আওতায় পরিকল্পনাটি আগের প্রস্তাবিত সময়ের চেয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের কথা ভাবছে ইরান।
বাঘাই জানান, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বার্তা বিনিময়ের জন্য দোহায় ছিলেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের দাবির প্রতি সম্মান এবং দেশটির বৈধ প্রয়োজন পূরণ না হলে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়।
শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, চুক্তি হলে সাত দিনের পরিবর্তে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। তবে ইরানের প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত আবার বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









