যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা। নির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে না এলে ট্রাম্প ও তার প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। অন্যদিকে, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য বড় জয়ের আভাস পেতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফলের দিকে তাকিয়ে আছেন বিশ্লেষকেরা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলরা। আগে নির্বাচনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিদেশি শক্তি ও সাইবার হামলাকে প্রধান হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এখন তাদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা বলেন, ‘তিনিই হুমকি। তিনিই হস্তক্ষেপ।’
তার আশঙ্কা, ভোট গণনার আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ব্যালট জব্দ বা আলাদা করে রাখার চেষ্টা করতে পারে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের আশপাশে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সেনাসদস্য মোতায়েনের বিষয়টিও তাকে ভাবাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আদালত ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যালট জব্দ করা, আলাস্কায় নির্বাচনের ফল অনুমোদন আটকে দেওয়া এবং দেশজুড়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার হুমকিসংক্রান্ত প্রশাসনিক উদ্যোগে বাধা দিয়েছেন।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল নিক ব্রাউনও নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে তার উদ্বেগের জায়গা স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নির্বাচন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অধিকাংশ কর্মকর্তা চাপের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু কর্তৃত্বপূর্ণ পদে থাকা কিছু ব্যক্তি নির্বাচনের ফল অস্বীকার করার প্রবণতা দেখাচ্ছেন।
এদিকে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের আভাস পেতে কেনটাকি, ইন্ডিয়ানা, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি আসনে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিতে পারে।
বিশেষ করে ফ্লোরিডার তিনটি প্রতিনিধি পরিষদের আসনের দিকে নজর রয়েছে বিশ্লেষকদের। রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি—এমন আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা ভালো করলে তা দেশজুড়ে দলটির সমর্থন বাড়ার ইঙ্গিত দেবে। ফ্লোরিডায় গভর্নর বা সিনেট আসনেও ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে সেটিকে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হবে।
এ ছাড়া জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেট নির্বাচন এবং ভার্জিনিয়ার তিনটি প্রতিনিধি পরিষদের আসনের ফলও গুরুত্বপূর্ণ। ওহাইওর ফল থেকে মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব আসনে ডেমোক্র্যাটদের ভালো ফলের ধারাবাহিকতা তৈরি হলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হবে। ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









