যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি দুই বছরের শাসনামলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট দিচ্ছেন মার্কিন নাগরিকেরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৫টি আসনের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে। তবে ডেমোক্র্যাটরা পর্যাপ্ত আসন পেলে প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
আগাম ভোট দিয়েছেন প্রায় ৫ কোটি ৯০ লাখ
নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬৭ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকশন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ভোটার সরাসরি আগাম ভোট দিয়েছেন। আর ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ ৭৯ হাজার মানুষ।
আগাম ভোটের এই সংখ্যা মধ্যবর্তী নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণের সময় আলাদা হওয়ায় ধাপে ধাপে ভোটকেন্দ্র খুলছে।
নির্বাচনে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বড় ইস্যু
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির কারণে পেট্রলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন অনেক ভোটার।
এ ছাড়া অভিবাসননীতি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, ইরান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়েও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করছে।
ট্রাম্প আশাবাদী, অর্থনৈতিক অগ্রগতির দাবি
নির্বাচনের দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নির্বাচনের ফল নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি তার প্রশাসনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন এবং টিপস ও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার আয়ের ওপর কর ছাড়ের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তবে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনমত জরিপে অর্থনীতি নিয়ে অনেক মার্কিন নাগরিকের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে।
ফ্লোরিডায় বন্যায় ভোটকেন্দ্র স্থানান্তর
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফ্লোরিডায় ১৯টি ভোটকেন্দ্র সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাজ্যটির কয়েকটি এলাকায় বন্যার কারণে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। সোমবার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস একাধিক কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচনী আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই প্রায় এক হাজার পর্যবেক্ষক ও নির্বাচনী মনিটর মোতায়েন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে এ ধরনের পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে বিভাগটি জানিয়েছে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে আলাস্কা, মেইন, টেক্সাস, কানসাস ও মিশিগানের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো ও রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নজরে রয়েছে।
এদিকে মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন না পাওয়া হ্যালি স্টিভেন্স রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছেন। তার এ সিদ্ধান্তে ডেমোক্র্যাট শিবিরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
কখন জানা যাবে নির্বাচনের ফল?
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হতে শুরু করবে। এরপর প্রাথমিক ফল প্রকাশিত হতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ফল জানতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
বিশেষ করে ডাকযোগে আসা ভোট গণনা এবং পুনর্গণনার প্রয়োজন হলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে আগামী দুই বছরে প্রশাসনের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









