ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার বাসভবনে মধ্যরাতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে অভিষেকের অভিযোগকে রাজনৈতিকভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বলে দাবি করেছে বিজেপি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোররাত ২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তার দাবি, এর আগে তার কার্যালয় ও বাসভবনের আশপাশে কয়েক দিন ধরে অপরিচিত ব্যক্তিদের সন্দেহজনক আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। এ বিষয়ে একটি ভিডিও প্রকাশের পরপরই তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
অভিষেকের দাবি, কলকাতা পুলিশের উপস্থিতিতেই বিজেপির কর্মীরা তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি কলকাতা হাইকোর্ট ও ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন।
তার অভিযোগ, গত ছয় মাসে তার ওপর প্রাণঘাতী হামলার এটি সপ্তম চেষ্টা। অথচ এসব ঘটনায় কার্যকর পুলিশি পদক্ষেপ কিংবা বিচারিক হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি।
এর আগে শুক্রবার অভিষেক অভিযোগ করেছিলেন, গত দুই দিন ধরে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তার কার্যালয় ও বাসভবনের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় কারা ওই ব্যক্তিদের পাঠিয়েছেন এবং কী উদ্দেশ্যে নজরদারি চালানো হয়েছে, তা জানতে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা। একই সঙ্গে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কলকাতা পুলিশ, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিষেকের অভিযোগের জবাবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন তৃণমূল নেতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হত্যার জন্য কার এত সময় রয়েছে?
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, কোনো রাজনৈতিক নেতা রাতে ফুটপাতে জন্মদিন উদ্যাপন করলে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে প্রতিক্রিয়া হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তার মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে বড় করে দেখানো হচ্ছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









