নিউজিল্যান্ডের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টি ও বিরোধী লেবার পার্টির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ভোট গণনার সর্বশেষ হিসাবে দুই দলের ব্যবধান প্রায় নেই বললেই চলে। সরকার গঠনের সমীকরণে ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের লাইভ আপডেট অনুযায়ী, ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং লেবার পার্টি পেয়েছে ২৯ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। গ্রিন পার্টি পেয়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ, অ্যাক্ট পার্টি ১১ শতাংশ এবং নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি ৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। নতুন দল অপরচুনিটি পেয়েছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট।
শনিবার (৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুকসনের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পার্টি সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্রিস হিপকিন্সের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টিও সরকার গঠনের প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে দুই প্রধান দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যায়। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বেকারত্ব ও স্বাস্থ্যসেবা ছিল নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
নিউজিল্যান্ডের মিশ্র সদস্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (এমএমপি) পদ্ধতিতে কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সরকার গঠন করতে হয়। এ কারণে ছোট দলগুলোর আসন ও সমর্থন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভোটের হিসাবে নতুন দল অপরচুনিটি ৫ শতাংশের নির্বাচনী সীমা অতিক্রম করে প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশের পথে রয়েছে। দলটি সাতটি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব নির্দেশ করছে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে দলটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে সর্বশেষ আসনভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ন্যাশনাল পার্টি, অ্যাক্ট ও নিউজিল্যান্ড ফার্স্টের সমন্বয়ে গঠিত ডানপন্থী জোট ১৩১ আসনের সংসদে ৬৮টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে লেবার, গ্রিনস ও মাওরি পার্টির সম্মিলিত আসন ৫৬টি হতে পারে। অপরচুনিটির সম্ভাব্য আসন সাতটি।
এদিকে লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিন্স নির্বাচনী প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, প্রতিটি ভোট গণনা করা জরুরি। নতুন সংসদে সরকার গঠনের জন্য সমঝোতা, সহযোগিতা ও ঐকমত্যের প্রয়োজন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভোট গণনা এখনো শেষ না হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের ভোটসহ বিশেষ ভোট গণনা শেষে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে। আগামী ২৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের এবারের নির্বাচনে প্রধান দুই দলের পাশাপাশি ছোট দলগুলোর অবস্থানও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









