ডেনমার্কে আগামী ২৪ মার্চ আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।
গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় জনমত জরিপে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরপরই তিনি এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সৃষ্ট সংকট এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি এবং দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও ফ্রেডেরিকসেন বর্তমান জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসতে চাইছেন। গত বছরের শেষের দিকে অভিবাসন ইস্যুতে কড়া অবস্থানের কারণে তার দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস কোপেনহেগেনের স্থানীয় নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিল। তবে জানুয়ারিতে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মাথা নত না করার কারণে ফ্রেডেরিকসেনের প্রতি ডেনিশ নাগরিকদের সমর্থন নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সরাসরি ট্রাম্পের নাম না নিলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পরোক্ষভাবে ডেনমার্কের নিরাপত্তার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, পূর্ব দিক থেকে রাশিয়ার যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা চাপের মুখে ডেনমার্ককে অবশ্যই সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী হতে হবে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও ডেনমার্কের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেছেন, যা ফ্রেডেরিকসেনের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।
এদিকে নির্বাচনের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। রক্ষণশীল দল 'ভেনস্ট্রে'-র নেতা ও বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোয়েলস লুন পলসেনসহ আরও তিনজন প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন। পলসেনও তার প্রচারণায় পুতিন ও ট্রাম্প—উভয়কেই ডেনমার্কের জন্য হুমকি হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য না করায় ফ্রেডেরিকসেন নির্বাচনের ডাক দেওয়ার জন্য উপযুক্ত সময় বেছে নিয়েছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









