দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বরিশালে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য মেলা। নানা জটিলতা, বিতর্ক এবং প্রশাসনিক বাধা পেরিয়ে নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ সাগর মাঠে বসেছে এ আয়োজন। দীর্ঘ বিরতির পর মেলার ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ। মেলাকে ঘিরে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, আর ব্যবসায়ী মহলে জেগেছে নতুন আশার সঞ্চার।
বাণিজ্য মেলা চলবে প্রায় এক মাস। মেলার বিশাল প্রাঙ্গণজুড়ে স্থান পেয়েছে দেশি-বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানের স্টল। গৃহস্থালি সামগ্রী, ইলেকট্রনিক পণ্য, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল সামগ্রী, প্রসাধনী, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য এবং বাহারি খাদ্যসামগ্রীর সমাহারে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।
দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন ফিরে আসায় দর্শনার্থীদের মাঝেও দেখা দিয়েছে বাড়তি আগ্রহ। প্রতিদিন বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মেলায় মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই ঘুরতে আসছেন, কেউ কেনাকাটা করছেন, আবার কেউ শুধুই বিনোদনের খোঁজে সময় কাটাচ্ছেন।
মেলায় ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, বরিশালে দীর্ঘদিন পর এমন একটি আয়োজন হওয়ায় নগরবাসী নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য থাকা বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন মেলার আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শিশু-কিশোরদের জন্য রাখা হয়েছে নাগরদোলা, মিনি ট্রেন, ওয়াটার বোটসহ বিভিন্ন আধুনিক রাইড। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এসব রাইডে শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা যায়। তাদের হাসি-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। ফলে বাণিজ্য মেলা এখন শুধু কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, বরং পারিবারিক বিনোদনের অন্যতম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর এমন একটি বৃহৎ বাণিজ্যিক আয়োজন তাদের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টির সুযোগ এনে দিয়েছে। মেলার মাধ্যমে একদিকে যেমন বিক্রি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন ক্রেতাদের কাছে নিজেদের পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগও মিলছে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, ছয় বছর পর বরিশালে আবার বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হয়েছে। আমরা এ আয়োজনকে ঘিরে অনেক আশা নিয়ে অংশ নিয়েছি। ব্যবসা ভালো হবে বলে আমরা আশাবাদী।
মেলাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং মেলার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ ছয় বছর পর আয়োজিত এই বাণিজ্য মেলা শুধু একটি কেনাবেচার আয়োজন নয়; এটি স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নিজেদের পণ্য প্রদর্শন ও বাজার সম্প্রসারণের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এ মেলা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









