ইরান জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম জেরুজালেম এলাকায়, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
ইরানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং নৌবাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতির জবাব দিতে তারা সরাসরি ইসরাইলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে দাবি করা হয়।
এক বিবৃতিতে ইরান জানিয়েছে, এই হামলা ‘বীরদের রক্তের বদলা’ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। এতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনার নিহত নাবিকদের কথা। পাশাপাশি দেশটির গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব হত্যার প্রতিশোধও এই হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়।
তবে হামলার ফলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপটও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনাকে লক্ষ্য করে টর্পেডো হামলা চালানো হয়। ইরানের দাবি, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় দেশটির নৌবাহিনীর ৮০ জনের বেশি সদস্য নিহত হন। যুদ্ধজাহাজটি তখন ভারতে মহড়া শেষে দেশে ফিরছিল।
অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলের এক বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব। এই ঘটনাও তেহরানের ক্ষোভকে আরও তীব্র করে তোলে এবং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের পথ তৈরি করে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বিপজ্জনক দিকে এগোচ্ছে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক উদ্যোগই পারে এই সংঘাতকে বড় আকার নেওয়া থেকে ঠেকাতে। সূত্র: আল-জাজিরা


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









