উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিস উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় ১৮ জন বাংলাদেশিসহ অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। যাত্রাপথে খাবার ও পানির অভাবে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) গ্রিস কোস্টগার্ডের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে এএফপি।
শুক্রবার ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ ২৬ জন জীবিতকে উদ্ধার করে। এএফপিকে গ্রিসের কোস্টগার্ড বলেছে, জীবিতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের এবং একজন চাদের নাগরিক। এছাড়া উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের আহত দুজনকে ক্রিট দ্বীপের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে, তারা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার রনারচরের মুজিবুর রহমান (৪৫), একই উপজেলার তারাপাশা এলাকার মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং মো. সাহান (২৫)।
কোস্টগার্ড জানায়, নৌকাটি গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তবরুক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। খারাপ আবহাওয়া এবং খাদ্য ও পানির অভাবই মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারা আরও জানায়, যাত্রাপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে এবং যাত্রীরা ছয় দিন ধরে খাবার ও পানীয় ছাড়াই সাগরে ভাসতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত ক্রিটের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর ইয়েরাপেত্রা থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকাটি শনাক্ত করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ ও অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত চলছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত সমুদ্রপথে গ্রিসে পৌঁছেছেন অন্তত ৪১ হাজার ৬৯৬ জন অভিবাসী, যার মধ্যে চলতি বছরেই চার হাজারের বেশি মানুষ এসেছে।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মানবপাচারকারীরা প্রায়ই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি বা লাইফজ্যাকেট ছাড়া নৌকা চালায়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









