বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

হরমুজ সচলে যুক্তরাজ্যসহ ৪০ দেশের জোট

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম

আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম

হরমুজ সচলে যুক্তরাজ্যসহ ৪০ দেশের জোট

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪০ দেশের একটি জোট গঠিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে আয়োজিত ভার্চুয়াল সম্মেলনে দেশগুলো এই জলপথে অবরোধ বন্ধের দাবি জানায় এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে গৃহীত যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখার মাধ্যমে ইরান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। তার মতে, একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে কার্যত জিম্মি করে রাখা হয়েছে। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর বৈঠকের বাকি অংশ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

ইরানের পাল্টা হামলা এবং নতুন হামলার হুমকির কারণে পারস্য উপসাগরকে বিশ্ব মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী এই প্রণালিতে প্রায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং পেট্রোলিয়ামের দাম বেড়ে গেছে।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র অনুপস্থিত- সম্মেলনে ৪০টি দেশ অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দেয়নি। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়। তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নেয়। এটিকে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে কর্মকর্তাদের নিয়ে কর্মপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

লন্ডন থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক রোরি চ্যাল্যান্ডস জানান, এই জোট শুধু পশ্চিমা দেশ বা ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এতে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশও রয়েছে। তবে এই দেশগুলোর বাস্তব নৌ-সামর্থ্য কতটুকু, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সামরিক সমাধানে অনীহা- চলমান সংঘাতের মধ্যে শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো দেশই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কারণ, ইরানের কাছে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, দ্রুতগতির নৌযান ও মাইনসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।

চ্যাল্যান্ডসের মতে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সামরিক সমাধানের বিরোধী। তার পাশাপাশি সম্মেলনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ দেশই যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী।

সম্মেলন শেষে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামরিক পরিকল্পনাবিদরা আগামী সপ্তাহে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আবার বৈঠকে বসবেন। সেখানে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।

এর আগে স্টারমার বলেন, জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা সহজ হবে না। এর জন্য সামরিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের সমন্বয়ে যৌথ কৌশল এবং নৌপরিবহন খাতের সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রয়োজন হবে।

কূটনৈতিক পথের ওপর জোর- ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, শক্তি প্রয়োগ করে প্রণালি খুলে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। এতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং জাহাজগুলো উপকূলীয় হামলার ঝুঁকিতে পড়বে, বিশেষ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কারণে। তার মতে, এই সংকটের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা।

শিপিং ডেটা প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত ২৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১১ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।

তবে ইরান জানিয়েছে, শত্রুভাবাপন্ন নয় এমন দেশগুলোর জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে। কেবল শত্রু দেশ ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য এই নৌপথ বন্ধ রাখা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.