যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, উভয় পক্ষ এখনও একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো থেকে অনেক দূরে রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শনিবার রাতে জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত আলোচনা থেকে অনেক দূরে রয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো অনেক ফাঁকফোকর রয়ে গেছে এবং বেশ কিছু মৌলিক বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে।’
গালিবাফ আরও বলেন, ‘মতপার্থক্যগুলো দূর না হলে এবং মৌলিক বিষয়গুলোর সমাধান না হলে চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব নয়।’
এদিকে ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর প্রতিবেদনে সামরিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাব্য সমাপ্তির আশঙ্কায় ইসরায়েলি বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, এ অবরোধের পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে যেতে পারে। অন্য অঞ্চলের ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহাজের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌবাহিনী ও বিশেষ দল পাঠিয়ে জাহাজ আটক বা তল্লাশি করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগে ‘সমঝোতার রূপরেখা’ চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ।
তিনি বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা নতুন করে বৈঠকের তারিখ ঠিক করতে পারছি না।’
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, কিছু বিষয় নিয়ে দুপক্ষ এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। আর এর কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ‘অতিরিক্ত দাবি’ উত্থাপন করেছে।
ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, তেহরান তার শর্তগুলো পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে।
তেহরান এটাও স্পষ্ট করেছে, যে তারা দীর্ঘ এবং অর্থহীন আলোচনা করে সময় নষ্ট করতে চায় না। এদিকে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তেহরান সেগুলো পর্যালোচনা করছে এবং এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম দফার শান্তি আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। যদিও দুপক্ষের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে চেষ্টা করছে পাকিস্তান।
এদিকে, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ অভিযানে ১২টির বেশি যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে। তাতে সহায়তা দিচ্ছে ১০ হাজারের বেশি কর্মী ও যুদ্ধবিমান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সমুদ্রসীমানায় কড়াকড়ির অংশ হিসেবে ইরান-সংশ্লিষ্ট ২৩টি জাহাজকে ইতিমধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব জাহাজকে হরমুজ প্রণালির দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, তারা সমুদ্রপথে তল্লাশি ও সন্দেহভাজন জাহাজগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









