ভ্রমণ মানেই অজানাকে জানা। জ্ঞান আহরণের সর্বাপেক্ষা সহজ উপায় ভ্রমণ। তাই ভ্রমনের গল্প লিখে রাখাই ভালো। এই ছোট ছোট গল্পগুলোই একদিন হয়ে ওঠে সময় ছুঁয়ে দেখার দ্বার। কখনো নিজের জন্য, কখনোবা অন্য কারো তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে।
‘মিরিঞ্জা ভ্যালি’, বান্দরবানের লামায় অবস্থিত এক অপূর্ব পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র এটি। মিরিঞ্জার আলাদা একটা নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। এই পাহাড়ের মূল আকর্ষণ হলো ‘মেঘ’। সারাদিনই এখানে মেঘের লুকোচুরি খেলা চলে। তাই জায়গাটি নিয়ে পর্যটকদের মাঝে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ফুট উঁচুতে এই ভ্যালির অবস্থান। বান্দরবান শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ৮৬ কিলোমিটার, আর চকরিয়া থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার।
এই পাহাড়ে রাত কাটানো ভ্রমণকে নিয়ে যায় একেবারে অন্য মাত্রায়। মাথার ওপর বিশাল আকাশ, অসংখ্য তারা আর একটা বড় চাঁদ, সব মিলিয়ে এক ধরনের নীরব মুগ্ধতা পাহাড়ের রাতের সৌন্দর্যে।
পর্যটন স্বর্গ বান্দরবান
এখানে সবই সৌরবিদ্যুতে চলে। বিদ্যুৎ থাকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। ঋতু বুঝে আসতে পারলে দিনে গরম লাগবে না, বাতাস থাকবে দারুণ। আর পাহাড়ের রাত বেশিরভাগ সময়ই ঠান্ডা।
যাতায়াতের গল্প
ঢাকা থেকে ইউনিকের নন-এসি বাসে ভাড়া জনপ্রতি ৯৫০ টাকা। নামতে হবে চকরিয়া বাজার। সেখান থেকে অটোরিকশায় ইয়াংছা- ভাড়া ২০০ টাকা। এরপর সিএনজি করে মিরিঞ্জা বাজার, জনপ্রতি ৫০ টাকা। চাইলে চকরিয়া থেকে সরাসরি সিএনজি রিজার্ভ করেও আসা যায়, তবে খরচ একটু বেশি পড়বে। মিরিঞ্জা বাজার থেকে রিসোর্টে পৌঁছাতে লাগে আরও ২০ মিনিটের মতো। হালকা ট্রেকিংয়ের ফিল অবশ্য যারা হাঁটতে চান না, তাদের জন্য মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা আছে। আপ-ডাউন ভাড়া ১০০ টাকা।
থাকা-খাওয়া
মারাইংছা ভ্যালির পড হাউজ। ভাড়া প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা। এখানে পড হাউজ ছাড়াও প্রিমিয়াম জুমঘর, কাপল জুমঘর ও তাবুর ব্যবস্থা আছে। সবগুলোর ভাড়া আলাদা। এটাচ বাথরুম, কমোড, সার্বক্ষণিক পানি সবই আছে। খাবার সব রিসোর্টেই প্যাকেজ আকারে পাওয়া যায়। প্রতিদিন চার বেলা খাবারের জন্য জনপ্রতি ৮০০ টাকা।
আশপাশে কী দেখবেন
মিরিঞ্জা ছাড়াও আশপাশে আছে ঝর্ণা, মাতামহুরী নদী (নৌকা ভ্রমণ ৭০০ টাকা), সুখিয়া ভ্যালি। সময় হাতে থাকলে আলীকদমের আলীর গুহাও ঘোরা যায়। চাইলে পরদিন কক্সবাজার থেকেও ঢু মেরে আসা যায়। সব মিলিয়ে জায়গাটা একদিনেই ঘোরা সম্ভব। তবে রিল্যাক্সড ট্যুর চাইলে আরও একদিন থেকে মেঘের সঙ্গে গল্প জুড়ে দেওয়া যায়। এখানে বারবিকিউ, জোরে গানবাজনা সবই আছে। তবে সারারাত তারার সাথে নিস্তব্ধতা উপভোগ করতে পারবেন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে।
ভ্রমণের আনন্দ নির্ভর করে সাথের সঙ্গী আর আবহাওয়ার ওপর। তাই পারফেক্ট ভ্রমণ সঙ্গী নিয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা সঠিক আবহাওয়া ধরার জন্য।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









