ভ্রমণ নিয়ে রোমান দার্শনিক সেন্ট অগাস্টিন বলেছিলেন,‘পৃথিবী একটা বই আর যারা ভ্রমণ করে না তারা বইটি পড়তে পারে না।’ তাই জ্ঞানার্জনের জন্য হলেও ভ্রমণ করা প্রয়োজন। কারণ আনন্দ উপভোগের সাথে জ্ঞান আহরণের সহজ উপায় ভ্রমণ।
সুখিয়া ভ্যালি। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় মাতামুহুরি নদীর তীরে অবস্থিত একটি পর্যটন কেন্দ্র। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই ভ্যালি চারপাশে সবুজ পাহাড় ও শান্ত নদীর জন্য পরিচিত। প্রকৃতি প্রেমী এবং পর্যটকদের জন্য এটি এক আকর্ষণীয় গন্তব্য।
ভ্যালিতে যা দেখবেন
সবুজ পাহাড়ের পাশ দিয়ে বয়ে চলা মাতামুহুরি নদীর মনোরম দৃশ্য, সুখিয়া-দুখিয়া পাহাড়ের মিলনমঞ্চ, ওয়াচ টাওয়ার থেকে পাহাড়ের চূড়ায় সবুজের সমারোহ, জুম ঘর ও ক্যাম্পিং করার স্থান, হিল হাইকিং ও ট্র্যাকিংয়ের সুযোগ, মাতামুহুরি নদীতে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, মিনঝিরি পাড়া ও সাদা পাহাড়, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত মনোরম দৃশ্য, মেঘেদের সাথে প্রকৃতির নিস্তব্ধতা অনুভব যেন অনন্য মাত্রা যোগ করে।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
সুখিয়া ভ্যালি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি)। এই সময় আবহাওয়া আরামদায়ক এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করা যায়।
যাত্রাপথ
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামুন। এরপর জিপ, বাস বা সিএনজির মাধ্যমে লামা হয়ে সুখিয়া ভ্যালি পৌঁছানো যায়।
থাকার ব্যবস্থা
ভ্যালিতে বেশ কিছু জুমঘর ও কটেজ রয়েছে। রিভারভিউ ইকো রিসোর্ট এবং সুখিয়া ভ্যালি ইকো রিসোর্টে থাকার সুযোগ রয়েছে। জুমঘরে ৫-২০ জন থাকা যায়, ভাড়া ১৫০০-৪০০০ টাকা। চাইলে তাবু নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা যায়। লামা উপজেলায় বা মিরিঞ্জা, মারাইংছা এলাকায় সাশ্রয়ী হোটেলও রয়েছে।
খাবারের ব্যবস্থা
কটেজ থেকে প্যাকেজ আকারে খাবার পাওয়া যায়। জনপ্রতি খাবারের প্যাকেজ মূল্য: ৬০০-৭৫০ টাকা।
প্রকৃতির সৌন্দর্য, পাহাড় ও নদী সবমিলিয়ে সুখিয়া ভ্যালি আপনাকে উপহার দেবে এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা । ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি উপভোগ্য গন্তব্য।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









