দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটার পরামর্শ প্রচলিত রয়েছে- যা ক্যালোরি পোড়াতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মাত্র চার হাজার পা (গড়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট) হাঁটতে পারলেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত উপকার।
‘ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এই গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন জানান- দেখা গেছে দিনে মাত্র চার হাজার পা হাঁটলেই প্রাপ্তবয়স্কদের অকাল মৃত্যু ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন’স হসপিটাল পরিচালিত এই পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সি ১৩ হাজার নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, যারা সপ্তাহে এক বা দুই দিন অন্তত ৪ হাজার পা হাঁটতেন, তাদের অকাল মৃত্যু ঝুঁকি ২৬ শতাংশ কমেছে।
সপ্তাহে তিন দিন বা তার বেশি সময় ৪ হাজার পা হাঁটলে অকাল মৃত্যু ঝুঁকি কমে প্রায় ৪০ শতাংশ।
একই সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে ২৭ শতাংশ। যারা দিনে ৭ হাজারের বেশি পা হাঁটতেন, তাদের অকাল মৃত্যু ঝুঁকি কমে ৩২ শতাংশ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি ১৬ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে অল্প হাঁটাও অত্যন্ত উপকারী। এটি রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
হাঁটাকে জীবনের অংশ করে নিতে হবে। অফিসে কাজের বিরতিতে হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা— এসব ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তন আনে।
ডা. নয়ন বলেন, “একদম নড়াচড়া না করার চাইতে অল্প হলেও হাঁটা উপকারী। যে কোনো দিন থেকে শুরু করাই হবে আসল উদ্দেশ্য।”
বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটুন, গান শুনে হাঁটুন বা পোষা কুকুর নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নড়াচড়া করা।
গবেষকরা মনে করেন, দিনে মাত্র চার হাজার পা হাঁটা— একটানা হোক বা দিনভর ভাগ করে, শরীর ও মনের জন্য উপকারী।
এই সহজ অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের পথ প্রশস্ত করে।
প্রতিবেলার খাবারের পর যে কারণে হাঁটা উচিত
যেভাবে হাঁটলে ওজন কমে দ্রুত
দেহের ভারসাম্য উন্নতিতে হাঁটা


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









