জমকালো শাড়ির সঙ্গে সোনার হার—বাঙালি সাজে যার আবেদন চিরন্তন। নতুন বউয়েরা জামদানি কিংবা কাতান শাড়ির সঙ্গে বেছে নিতে পারেন হালকা ডিজাইনের পেয়ার শেপ বা প্লেইন টেক্সচার্ড সোনার নেকলেস। আর অষ্টমীর সাজে যদি থাকে একটু রাজকীয় আবহ, তাহলে কয়েক লহরের বা লেয়ারের মুক্তা কিংবা রঙিন রত্নখচিত হার হতে পারে চমৎকার পছন্দ। শাড়ির সঙ্গে এমন একটি হারই সাজের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
ডায়মন্ড লকেট
সব সময় ভারী গয়না যে পরতেই হবে, এমন নয়। বরং কখনো কখনো ছোট্ট একটি গয়নাই পুরো সাজে এনে দিতে পারে পরিমিত আভিজাত্য। হালকা গয়নায় অভিজাত লুক পেতে নবমী কিংবা দশমীর রাতে ট্র্যাডিশনাল পোশাকের সঙ্গে পরতে পারেন ছোট ডায়মন্ড লকেটের চেইন। সরল, পরিশীলিত এবং নিঃসন্দেহে নজরকাড়া।
রঙিন পাথরের কানের দুল
একঘেয়েমি কাটাতে শাড়ির পাড়, আঁচল কিংবা নকশার সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে পারেন রঙিন জেমস্টোনের কানের দুল। এতে সাজে যেমন আসবে রঙের ছোঁয়া, তেমনি গয়নাতেও ফুটে উঠবে উৎসবের আমেজ। যারা ভারী কানের দুলে স্বচ্ছন্দ নন, তাদের জন্য জাঁকালো ফ্লোরাল বা নবরত্ন বসানো স্টাড কিংবা টপ ইয়াররিং হতে পারে আদর্শ। ছোট আকারের হলেও নকশার বৈচিত্র্যে এগুলো সহজেই নজর কাড়বে।
চাঁদবালি ও ঝুমকো
অষ্টমীর অঞ্জলি কিংবা আরতির সময় ট্র্যাডিশনাল এথনিক পোশাকের সঙ্গে চাঁদবালির সৌন্দর্য যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। মুখের গড়ন ও সাজের ধরন অনুযায়ী ছোট-বড় চাঁদবালি বেছে নেওয়া যায়। অন্যদিকে উৎসবের আমেজে ক্ল্যাসিক ঝুমকার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক কাটছাঁটের হীরা কিংবা সোনার ঝুমকো শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা অন্য যেকোনো দেশীয় পোশাকের সঙ্গেই অনায়াসে মানিয়ে যায়।
চুড়িতে উৎসবের রং
চুড়ির ঝনঝন শব্দও তো উৎসবেরই অংশ। সপ্তমীর সকালে সাধারণ সুতি কিংবা লিনেন শাড়ির সঙ্গে জ্যামিতিক নকশার গোল্ড বা ক্লাস্টার ডায়মন্ডের চুড়ি সাজে এনে দিতে পারে আলাদা মাত্রা। একাধিক চুড়ি একসঙ্গে পরার পাশাপাশি চাইলে একটি স্টেটমেন্ট চুড়িকেও সাজের কেন্দ্রবিন্দু করা যায়।
ময়ূর ও পদ্ম মোটিফ
গয়নার নকশায় প্রকৃতির উপস্থিতি বরাবরই আকর্ষণীয়। ময়ূরের পেখম ও নকশা থেকে অনুপ্রাণিত ডায়মন্ড কিংবা সোনার দুল ও আংটি এথনিক সাজে যোগ করতে পারে বাড়তি গ্ল্যামার। পদ্মের কুঁড়ি কিংবা ফোটা ফুলের আদলে তৈরি নেকলেস ও দুল উৎসবের পরিবেশের সঙ্গে তৈরি করে অপূর্ব এক সামঞ্জস্য। ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে এমন মোটিফের গয়না হয়ে উঠতে পারে সাজের বিশেষ আকর্ষণ।
ক্ল্যাসিক ২২ ক্যারেট সোনার চেইন
অতিরিক্ত সাজগোজে যাদের আগ্রহ কম, তাদের জন্য পুরোনো সেই চিরকালীন পছন্দ—একটি প্লেইন ২২ ক্যারেট সোনার চেইন। খুব সাধারণ লিনেন বা ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গেও এটি এনে দিতে পারে আভিজাত্যের ছোঁয়া। চাইলে চেইনের সঙ্গে ছোট্ট একটি পেনডেন্ট যোগ করে সাজে আনা যায় ব্যক্তিগত বৈচিত্র্য।
স্নিগ্ধ মুক্তার গয়না
মুক্তার সৌন্দর্য তার স্নিগ্ধতায়। খুব বেশি ঝলমলে না হয়েও এই গয়না মুহূর্তেই সাজে এনে দিতে পারে কোমল, পরিশীলিত আবহ। ষষ্ঠীর সকালের স্নিগ্ধ সাজে ডায়মন্ড ও মুক্তার মিশ্রণে তৈরি স্টাড কিংবা হুপ ইয়াররিং বেশ মানানসই হতে পারে। হালকা রঙের শাড়ি, প্যাস্টেল টোনের পোশাক কিংবা সাদা-লালের ক্ল্যাসিক পূজার সাজ—সবকিছুর সঙ্গেই মুক্তার গয়না তৈরি করতে পারে মায়াবী এক আবহ।
অ্যান্টিক অক্সিডাইজড সিলভার
পূজার সাজ মানেই যে কেবল শাড়ি আর সোনার গয়না, তা নয়। কুর্তি, ক্যানভাস স্কার্ট কিংবা ডেনিমভিত্তিক ফিউশন সাজে ভিন্ন মাত্রা আনতে অ্যান্টিক অক্সিডাইজড সিলভারের গয়না হতে পারে দারুণ পছন্দ। বড় অক্সিডাইজড ঝুমকা, স্টেটমেন্ট নেকপিস কিংবা চওড়া ব্রেসলেট—এ ধরনের গয়না সাদামাটা পোশাককেও করে তুলতে পারে আকর্ষণীয়। বিশেষ করে যাঁরা একটু বোহেমিয়ান বা ইন্ডো-ওয়েস্টার্ন লুক পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি বেশ উপযোগী।
পার্সোনালাইজড গয়নায় নিজস্বতার ছোঁয়া
উৎসবের সাজে নিজের গল্পটুকুও যদি সঙ্গে রাখতে চান, তাহলে বেছে নিতে পারেন পার্সোনালাইজড গয়না। বাংলা বর্ণমালা কিংবা নিজের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে তৈরি কাস্টমাইজড গোল্ড নেকলেস, নামের পেনডেন্ট কিংবা জেমস্টোন ব্রেসলেট—সবই সাজে যোগ করতে পারে নিজস্বতার বিশেষ ছোঁয়া।
কখনো ভারী রত্নখচিত হার, কখনো স্নিগ্ধ মুক্তা, আবার কখনো মায়ের পুরোনো গয়নার নকশায় তৈরি কোনো অলংকার—প্রতিটি গয়নাই হয়ে উঠতে পারে উৎসবের স্মৃতির অংশ। ষষ্ঠী থেকে দশমী—প্রতিদিনের সাজে তাই থাকুক আলাদা গল্প, আর সেই গল্পের সবচেয়ে উজ্জ্বল অলংকার হয়ে উঠুক আপনার পছন্দের গয়না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









