সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী অ্যান কারসনের গদ্যের বই ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট: অ্যান এসে’ থেকে ‘বেলেরোফন ইজ কোয়াইট রং আফটার অল’ প্রবন্ধটি দৈনিক এদিন অনলাইন পাঠকদের জন্য ভাষান্তর করল। আসুন বেলেরোফন কেন ভুল ছিলেন অ্যান কারসনের কাছে জেনে নেই।
বেলেরোফোন শেষ পর্যন্ত ভুলই ছিলেন
মহাকাব্যের বংশপরিচয়ের ভেতরে স্থাপিত হলেও বেলেরোফোনের গল্প আসলে ত্রিভুজ প্রেমের গল্প। উপন্যাসের জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত উপাদান আর কী হতে পারে? হোমার এই কাহিনি কোথা থেকে পেয়েছিলেন, আমরা জানি না। সম্ভবত তার ব্যবহৃত মহাকাব্যিক ঐতিহ্যের মধ্যে এটি ছিল লিডীয় সংস্কৃতির এক অতি প্রাচীন স্তর থেকে উঠে আসা গল্প। হোমারের নিজের সময়ের বহু আগের কথা—যদি ধরে নিই, তিনি খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীর মানুষ। সেই সময়ে এজীয় জগতে, অথবা অন্তত গল্পটির ঘটনাস্থল লুকিয়ায়, কোনো না কোনো ধরনের পড়া ও লেখার প্রচলন ছিল। কী ধরনের লিপি ব্যবহৃত হতো, কেউ জানে না। হোমার নিজেও হয়তো জানতেন না। অনেক গবেষকের ধারণা, কবি হোমার নিজে নিরক্ষর ছিলেন। অন্তত বেলেরোফোনের গল্প বলার সময় পড়া ও লেখার যে বিস্ময়কর ঘটনা কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে, তার প্রতি তার বিন্দুমাত্র কৌতূহল দেখা যায় না। লেখার প্রসঙ্গটি এখানে এতটাই নিষ্প্রভ যে বিস্মিত হতে হয়।
বেলেরোফোন ছিলেন এক তরুণ। দেবতারা তাকে দিয়েছিলেন অসাধারণ সৌন্দর্য (ইলিয়াড, ৬.১৫৬)। হত্যার দায়ে নিজভূমি থেকে নির্বাসিত হয়ে তিনি আশ্রয় নেন এফিরার রাজা প্রোয়িতোসের কাছে। অজান্তেই তিনি প্রেম জাগিয়ে তোলেন প্রোয়িতোসের স্ত্রী আনতেইয়ার হৃদয়ে।
প্রেমে পড়া নারী আকাঙ্ক্ষায় উন্মত্ত। যাকে ভালোবাসেন, সে নির্বিকার। প্রেমের পরিচিত এক দৃশ্য। আনতেইয়া তার পরিচিত প্রতিক্রিয়াটিই দেখান। তিনি প্রেমের সরল রেখায় তৃতীয় একটি কোণ যোগ করেন। মিথ্যা কাহিনি বানিয়ে স্বামীর মনে বেলেরোফোনের বিরুদ্ধে ঈর্ষা জাগিয়ে তোলেন। প্রোয়িতোস তখন তরুণটিকে ধ্বংস করতে চান। তবে সরাসরি মুখোমুখি হয়ে নয়। রাজা একটি ফাঁদ পাতেন। এমন এক ফাঁদ, যেখানে প্রেমের তিনটি কোণ একত্র হবে একটি প্রাণঘাতী লেখার মাধ্যমে। বেলেরোফোনকে পাঠানো হয় লুকিয়ায়, আনতেইয়ার পিতার প্রাসাদে। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় তার নিজের মৃত্যুর পরোয়ানা।

হোমার লেখেন:
প্রোয়িতোস তাকে লুকিয়ায় পাঠালেন। একটি ভাঁজ করা ফলকে লিখে দিলেন বহু প্রাণঘাতী সংকেত—সেমাতা লুগরা। নির্দেশ দিলেন, সেগুলো যেন বেলেরোফোন তাঁর শ্বশুরকে দেখান, যাতে তিনি ধ্বংস হন। (৬.১৬৮–১৭০)
ভাঁজ করা ফলকে কী লেখা ছিল? কার জীবন ধ্বংস হওয়ার কথা? বেলেরোফোনের। আর কে তাকে ধ্বংস করবেন? আনতেইয়ার পিতা। সম্ভবত প্রোয়িতোস লিখেছিলেন, তার সতী কন্যাকে বেলেরোফোন নামের এক লম্পট ধর্ষক অপমান করেছে। আনতেইয়ার কল্পনায় যে প্রেমের ত্রিভুজের জন্ম হয়েছিল, এবার তা লিখিত সত্যের মর্যাদা পেল। সত্যটি অবশ্য মিথ্যা। কিন্তু উপন্যাসও তো মিথ্যা। অন্তত আপাতত এই বিষয় নিয়ে আমাদের থামতে হবে না। এই লিখিত সত্যের ওপর এমন একটি রূপক এসে পড়ে, যা প্রায় বেলেরোফোনকে হত্যা করেছিল। রূপকটি একত্র করে প্রেম নিবেদনের কাজ এবং লিখিত পাঠ পড়ার কাজকে। বেলেরোফোনের জীবনের পর্দায় দুটি ঘটনা পাশাপাশি দেখা দেয়।
তিনি নিজের অজান্তেই দুবার সংকেতের শিকার। প্রথমে তার সৌন্দর্য—দেবতাদের দেওয়া উপহার—আনতেইয়াকে আকৃষ্ট করে। তিনি তা জানেন না। তারপর প্রোয়িতোসের দেওয়া ভাঁজ করা ফলক তার মৃত্যুর নির্দেশ লিখে বহন করে। তিনি সেটি পড়েনি। তিনি হাতে করে নিয়ে চলেছেন এমন এক লেখা, যার কাজ জীবন ধ্বংস করা। কিন্তু গ্রিক শব্দ থুমোফথোরা দ্ব্যর্থক। উপরিভাগে এর অর্থ ‘প্রাণনাশী বিষয়’। এখানে তা বেলেরোফোনকে হত্যার পরিকল্পনা বোঝায়। অথচ শব্দটি হৃদয়ভাঙা বা মর্মবিদারক অর্থও বহন করতে পারে—যেমনটি ‘ওডিসি’র ৪.৭১৬ পঙ্ক্তিতে দেখা যায়। সে অর্থে শব্দটি আবার আনতেইয়াকে উন্মত্ত করে তোলা প্রলোভনময় সৌন্দর্যের কথাও মনে করিয়ে দেয়।
অজান্তে প্রেম জাগানো দিয়ে বেলেরোফোনের গল্প শুরু হয়েছিল। না-পড়া লেখা দিয়ে তার শেষ হওয়ার কথা। এই সম্ভাবনাগুলো ভাসমান থাকে ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে বেলেরোফোনের দৃষ্টি পৌঁছায় না। বেলেরোফোন যেন প্রেমের অন্ধ বিন্দুর এক জীবন্ত রূপক। তার মুখে—সৌন্দর্যের মধ্যে—এবং হাতে—ফলকের মধ্যে—এমন অর্থ বহন করে চলেছেন, যা তিনি নিজেই পাঠোদ্ধার করতে পারেন না। ফলকটি তার কাছে ভাঁজ করাই থেকে যায়। আক্ষরিক অর্থে, রূপক অর্থেও।ফলকটি খুললে তার দুই পিঠ মিলে একটি অর্থ তৈরি করত। এমন এক অর্থ, যা বেলেরোফোনের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ বেমানান। তিনি জীবিত। কিন্তু লেখাটি তাকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করতে উদ্যত। এখানে অর্থটি কেবল একটি বিশেষ্য নয়। এটি একটি ক্রিয়া। এটি কাজ করবে। বেলেরোফোনের পরিচয়ের পাশে একটি নতুন বিধেয় বসিয়ে দেবে— মৃত। নতুন অর্থটি পুরোনো অর্থকে পুরোপুরি মুছে ফেলবে না। দুটির মধ্যকার ব্যবধানও অদৃশ্য হবে না। কারণ মৃত্যু জীবনের অনুপস্থিতি তৈরি করে, অথচ সেই অনুপস্থিতির মধ্য দিয়েই জীবনকে দৃশ্যমান রাখে। এই অর্থের কেন্দ্রে একটি অন্ধ বিন্দু। সেখানে বেলেরোফোন নিজের পরিস্থিতি সম্পর্কে যা জানেন, তা নিজের মধ্যেই হারিয়ে যায়। যদি তিনি ফলকটি খুলে নিজের হাতে বহন করা বার্তাটি পড়ে ফেলতেন, তাহলে হয়তো অ্যারিস্টটলের ভাষায় বলে উঠতেন—
‘আচ্ছা, শেষ পর্যন্ত আমি তো পুরোপুরি ভুলই ছিলাম!’
সেই মুহূর্তটি হতো অসহনীয় যন্ত্রণার। আবার সেটিই হয়তো তার জীবন বাঁচিয়ে দিত। সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলে আমাদের বারবার এমন মুহূর্তে ফিরে যেতে হয়। প্রাচীন ভাষ্যকার ইউস্তাথিউস ইলিয়াড ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘অন্য কেউ নয়, বেলেরোফোন নিজেই চিঠিটি বহন করেছিলেন; যেন এক ট্র্যাজিক পরিণতিতে নিজের ডানার ফাঁদে নিজেই ধরা পড়েছিলেন।’

ইউস্তাথিউস এখানে অতিরিক্ত অর্থ আরোপ করছেন। হোমারের গল্পে ঘটনাটি আদৌ ট্র্যাজিক নয়। লুকিয়ায় গিয়ে বেলেরোফোন কোনো ফাঁদে আটকা পড়েন না। আনতেইয়ার পিতার দরবারে পৌঁছে তিনি রাজাকে সেই অপরাধসূচক চিঠি দেন। তারপর কয়েকটি বীরত্বপূর্ণ অভিযান সম্পন্ন করে চিঠির বক্তব্যকে মিথ্যা প্রমাণ করেন। পুরস্কার হিসেবে বিয়ে করেন রাজার অন্য কন্যাকে। ভাঁজ করা ফলকটির কথা এরপর আর ওঠে না। সহজেই কল্পনা করা যায়, আনতেইয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পটি বলা হলে তা একটি ট্র্যাজেডিতে পরিণত হতে পারত। ইউরিপিদিসের হিপোলিটাস তার সম্ভাব্য উদাহরণ। আবার বেলেরোফোন ও তার লুকীয় স্ত্রীর সম্পর্ক ঘিরেও একটি প্রেমের উপন্যাস লেখা যেত। কিন্তু ইলিয়াড এসব গল্প বলে না। হোমারের নায়ক যোদ্ধা। বিজয়ী। প্রেম তার জীবনের প্রান্তিক ঘটনা। তাকে প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টাও শেষ পর্যন্ত হতাশ করে। বেলেরোফোন জয়ী হন নিজের বীরত্বের গুণে, নিজের রূপকটি উন্মোচন করার মাধ্যমে নয়।
হোমার মূলত সেইসব অনুমান, ইঙ্গিত ও অর্থের ধাঁধা নিয়ে আগ্রহী নন, যা ঔপন্যাসিকদের এবং পরবর্তী যুগের কবিদের আনন্দ দেয়। তার যুদ্ধ করার আছে। ভাঁজ করা ফলকের লেখাও তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে না। বেলেরোফোনের মতো হোমারও লেখাটি বহন করেন, অথচ উপেক্ষা করেন। কেন বেলেরোফোন ফলকটি পড়েন না? তার কি কৌতূহল নেই? তিনি কি নিরক্ষর? সিলমোহর ভাঙতে কি তার সংকোচ হয়? একই প্রশ্ন হোমারকেও করা যায়। প্রাচীন মৌখিক ঐতিহ্যের ভেতর থেকে কথা বলা একজন কবির সঙ্গে লুকিয়ার এই ছোট্ট আখ্যানটির সম্পর্ক কী—যে আখ্যানে লিপি, প্রেম ও ত্রিভুজ এসে মিলেছে? তিনি কি নিজের ব্যবহৃত সংকেতগুলো পড়তে পারেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কীভাবে দেওয়া সম্ভব, আমি জানি না। বেলেরোফোন ও তার প্রাণঘাতী লেখার ঐতিহ্যবাহী গল্পটির গভীরে রূপকের এক প্রবল সম্ভাবনা যেন জীবাশ্ম হয়ে রয়ে গেছে। তাকে টেনে বের করা যায় না—অন্তত অতিরিক্ত ব্যাখ্যার আশ্রয় না নিয়ে। তবু গল্পটি পড়া ও লেখার অভ্যাস এবং তার প্রভাব নিয়ে কিছু ভাবনার উপাদান দেয়। আমরা আগেই বলেছি, বেলেরোফোনের পুরাণ এমন এক সময় থেকে এসেছে, যখন লুকীয় সমাজে কোনো না কোনো ধরনের লেখার প্রচলন ছিল। এই পুরাণে এমন কিছু ধারণা একত্র হয়েছে, যেগুলো প্রাচীন উপন্যাস নিয়ে আমাদের আলোচনায় বারবার ফিরে আসে। এটি প্রেমের গল্প, যেখানে আকাঙ্ক্ষা কাজ করে একটি ভাঁজ করা লেখার মাধ্যমে। প্রেমের পরিস্থিতিতে প্রথমে দুটি পক্ষ থাকে। প্রেমিক ইচ্ছাকৃতভাবে তৃতীয় একটি কোণ যোগ করে সেই সম্পর্ককে জটিল করে তোলেন। লিখিত পাঠ হয়ে ওঠে জটিলতার যন্ত্র।
লেখাটি গল্পে প্রবেশ করার পথ ধরে রূপক, অনুমান, আপাতবিরোধ এবং কল্পনার ক্রিয়া এগিয়ে আসে। এসব উপাদান গল্পের কেন্দ্রে এবং তার নায়ক বেলেরোফোনের কেন্দ্রে একটি অন্ধ বিন্দু তৈরি করে। সেই অন্ধ বিন্দুর ভেতরেই বেলেরোফোন এবং হোমার সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আমাদের চোখের সামনে হারিয়ে যায়। বিভিন্ন সাহিত্যরূপে এই উপাদানগুলোর সঙ্গে পড়া ও লেখার এমন পুনঃপুন মিলন থেকে কি কিছু শেখা যায়? সম্ভবত যায়। কোনো লেখক যখন পড়া ও লেখা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন, তখন তার কল্পনা একটি নির্দিষ্ট পথে প্রশিক্ষিত হয়। তার মানসিক ভূদৃশ্যের ওপর আলো পড়ে একটি বিশেষ কোণ থেকে। উপন্যাস নামের সাহিত্যরূপটি সেই আলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিতে গড়ে উঠেছে। বেলেরোফোনের গল্পের গভীরে, হোমারেরও আগের কোনো কল্পনা, একই কোণ এঁকে রেখেছিল। পাঠের সময় সেই কোণ আমাদের এক বিশেষ, সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না এমন আনন্দ দেয়। উপন্যাসিকেরা সচেতনভাবে যে আনন্দকে কাজে লাগান, হোমার তা করেন না। তবু তার সংস্করণটি পড়তে গিয়ে আমরা প্রশ্নটির কিছুটা কাছে পৌঁছে যাই। প্রশ্নটি এই আলোচনার কেন্দ্রস্থলে রয়েছে।
পাঠক এবং তার পাঠের সম্পর্ক আসলে কী? দান্তের ‘ইনফার্নো’য় ফ্রানচেস্কার বিখ্যাত কথাগুলো আমরা আগেই স্মরণ করেছি। আরও কিছু অনুরূপ দৃশ্য মনে পড়ে। যেমন পুশকিনের ইউজিন ওনেগিন উপন্যাসের তাতিয়ানা। রোমান্টিক কল্পকাহিনিতে আচ্ছন্ন তাতিয়ানা—
কী গভীর মনোযোগে সে এখন
একটি মধুর উপন্যাস পড়ে,
কী জীবন্ত মোহে পান করে
প্রলোভনময় কল্পনার রস!
... দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
অন্যের উল্লাসকে নিজের করে,
অন্যের বিষাদকে নিজের করে,
সম্মোহিতের মতো মুখস্থ বলে যায়
সেই মনোহর নায়কের উদ্দেশে লেখা চিঠি।
(৩:৯)

বাস্তব জীবনের পাঠকও, সাহিত্যের ভেতরের পাঠকের মতো, লিখিত শব্দের আকর্ষণের সাক্ষ্য দেন। ঔপন্যাসিক ইউডোরা ওয়েল্টি তার মায়ের সম্পর্কে লিখেছেন:
‘তিনি ডিকেন্স পড়তেন এমনভাবে, যেন তাঁর সঙ্গে পালিয়ে যেতেন।’ (১৯৮৪, পৃ. ১৭)
ডিকেন্স নিজেও পাঠকের এমন মনোভাব দেখে অস্বস্তি বোধ করতেন না—১৮৫৫ সালে মারিয়া বিডনেলকে লেখা একটি চিঠি থেকে অন্তত তা মনে হয়। মারিয়াই ছিলেন তাঁর ডেভিড কপারফিল্ড উপন্যাসের ডোরা চরিত্রটির অনুপ্রেরণা। চিঠিতে ডিকেন্স লিখেছিলেন—
‘হয়তো এক-দুবার বইটি নামিয়ে রেখে ভেবেছেন, “ছেলেটি আমাকে কত গভীরভাবে ভালোবেসেছিল, আর এই মানুষটি আজও সেই প্রেম কত জীবন্তভাবে মনে রেখেছে!”’ (স্লেটার, ১৯৮৩, পৃ. ৬৬)
ফ্রানচেস্কা, তাতিয়ানা, মারিয়া বিডনেল, ইউডোরা ওয়েল্টির মা—এঁদের প্রত্যেকের মধ্যে দিয়ে লিখিত পৃষ্ঠা থেকে প্রেমের এক স্রোত লাফিয়ে উঠেছে। আপনিও নিশ্চয় এমন কিছু অনুভব করেছেন। মঁতেঁ, হেলিওডোরাস কিংবা স্যাফো পড়তে গিয়ে। তাহলে এই ঘটনাটিকে কি আমরা আরও বাস্তবসম্মতভাবে বুঝতে পারি?
পড়া ও লেখার মধ্যে ঠিক কী এমন আছে, যা কামনা জাগায়?
------------------------
গ্রিক পুরাণের বেলেরোফন ছিলেন এক সাহসী বীর, যিনি ডানাওয়ালা ঘোড়া পেগাসাসের সাহায্যে নানা বিপজ্জনক অভিযানে অংশ নেন। রাজা প্রোয়েটাসের স্ত্রী আন্তেয়া তাকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেন। বেলেরোফন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে আন্তেয়া প্রতিশোধ নিতে চান। তিনি স্বামীকে জানান, বেলেরোফন তাকে অপমান করেছেন। রাজা সরাসরি তাকে হত্যা না করে লিসিয়ার রাজা ইয়োবাতেসের কাছে পাঠান, সঙ্গে দেন একটি গোপন বার্তা—যার নির্দেশ ছিল বেলেরোফনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। কিন্তু বেলেরোফন একের পর এক বিপজ্জনক পরীক্ষায় জয়ী হন। তার কাহিনি প্রেম, প্রত্যাখ্যান, প্রতিশোধ এবং মানুষের ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার আকাঙ্ক্ষার এক জটিল আখ্যান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









