বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

ভ্রমণ বিষয়ক বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে পাঠকদের

প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

ভ্রমণ বিষয়ক বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে পাঠকদের

রাজধানীর সাংস্কৃতিক পরিসরে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ এ ভ্রমণবিষয়ক নতুন বইয়ের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও পাঠকদের আগ্রহে তাতে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। মেলার বিভিন্ন স্টলে ঘুরে দেখা যায়, পাঠকদের চোখে-মুখে ভ্রমণকাহিনির প্রতি এক ধরনের আলাদা কৌতূহল ও টান কাজ করছে।

বইয়ের পাতায় বর্ণিত দূরদেশের গল্প যেন মুহূর্তেই পাঠকদের কল্পনায় তুলে আনছে তাজিকিস্তানের পামির মালভূমির রুক্ষ সৌন্দর্য, মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন নগর সভ্যতার নিদর্শন কিংবা সুন্দরবনের গভীর অরণ্যের রহস্যময়তা।

মেলায় আসা অনেক ভ্রমণপিপাসু পাঠক বলছেন, ভ্রমণসাহিত্য কেবল বিনোদনের উপকরণ নয়; বরং এর মাধ্যমে অজানা সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার একটি অনন্য সুযোগ তৈরি হয়। ফলে সংখ্যায় সীমিত হলেও এই ধারার বইগুলোর প্রতি আগ্রহ একদমই কমেনি। বরং নির্দিষ্ট কিছু পাঠকগোষ্ঠী ভ্রমণবিষয়ক বইয়ের খোঁজে সরাসরি নির্দিষ্ট স্টলে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন নতুন প্রকাশনার।

প্রকাশকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় এখন পর্যন্ত মোট ২৭টি নতুন ভ্রমণবিষয়ক বই প্রকাশিত হয়েছে। বাতিঘর, অনুপ্রাণন, জাগৃতি প্রভৃতি পরিচিত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এ বছর এই ধারায় কিছু নতুন বই প্রকাশ করেছে। নন্দিত ভ্রমণগদ্য লেখক মঈনুস সুলতানের নতুন বই ‘ককস্পার দ্বীপের কেল্লা ও জলদস্যুদের জাহাজ’ প্রকাশ করেছে বাতিঘর। সমুদ্রপথের ইতিহাস, দ্বীপাঞ্চলের অজানা কাহিনী এবং জলদস্যুদের অভিযানভিত্তিক নানা তথ্যসমৃদ্ধ বর্ণনা বইটিকে আলাদা আকর্ষণ দিয়েছে বলে পাঠকরা মনে করছেন। বইটির পাতায় সমুদ্রযাত্রার রোমাঞ্চ, দ্বীপের রহস্য এবং ইতিহাসের বহু অজানা দিক তুলে ধরা হয়েছে, যা পাঠকদের কল্পনার জগৎকে সমৃদ্ধ করে।

অন্যদিকে চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী নওশীন জানান, ভ্রমণসাহিত্যের পাঠক আলাদা ধরনের। অনেকেই মেলায় এসে সরাসরি এই ধরনের বইয়ের খোঁজ করেন এবং নতুন কিছু পেলে তা সংগ্রহ করেন। মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই তাদের স্টলে ভ্রমণভিত্তিক বইয়ের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে সপ্তাহান্তে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি জানান, বাহার লেলিনের লেখা ‘নতুন চীনের অচিন পথে’ বইটি পাঠকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এদিকে অনুপ্রাণন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত এলিজা বিনতে এলাহীর ‘রোড টু পামির’ বইটিতে মধ্য এশিয়ার তাজিকিস্তান অঞ্চলের ইতিহাস, পামির মালভূমির প্রকৃতি, রেশমপথের বাণিজ্যিক যাত্রা এবং সেখানকার মানুষের জীবনধারার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে লেখক ভ্রমণের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নানা তথ্য উপস্থাপন করেছেন, যা পাঠকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

জাগৃতি প্রকাশনীও এ বছর সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ভ্রমণগ্রন্থ প্রকাশ করেছে। সৈয়দ শাফাত উদ্দিন আহমেদের লেখা ‘তমাল তরুর সুন্দরবন’ বইটিতে সুন্দরবনের পরিবেশ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বনাঞ্চল ঘিরে নানা অপরাধ, লোককথা ও বনজ মিথ এবং স্থানীয় মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে। ফলে এটি কেবল ভ্রমণবিষয়ক বই নয়, বরং পরিবেশ ও সমাজবাস্তবতার একটি দলিল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

তবে কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এ বছর নতুন ভ্রমণবই প্রকাশ না করলেও তাদের পুরোনো বইয়ের প্রতি পাঠকদের আগ্রহ এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই বিষয়ে একজন বিক্রয়কর্মী জানান, তারা নতুন কোনো ভ্রমণগ্রন্থ আনেননি, কিন্তু পূর্বে প্রকাশিত বইগুলোর বিক্রি এখনও ভালো হচ্ছে। অনেক পাঠক পুরোনো কিন্তু জনপ্রিয় ভ্রমণকাহিনীও সংগ্রহ করছেন।

এদিকে আগামী প্রকাশনী প্রকাশ করেছে সামসাদ ফেরদৌসীর ‘তুরস্কের পথে পথে’ এবং আবদুল লতিফের ‘ইউরোপের দেশে দেশে’ শীর্ষক দুটি বই, যেখানে ইউরোপ ও তুরস্কের বিভিন্ন শহরের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ভ্রমণ অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে।

ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর ভ্রমণকাহিনি ‘ও আকাশ ও বিহঙ্গ’। পাশাপাশি পাঞ্জেরী প্রকাশনী নিয়ে এসেছে লোপামুদ্রা মালেকের ‘শান্তা দেবীর জাপান’, যেখানে জাপানের সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে আরও কিছু ভ্রমণবিষয়ক বই প্রকাশ করেছে, যদিও সংখ্যার দিক থেকে তা খুব বেশি নয়।

এদিকে মেলার সামগ্রিক প্রকাশনা পরিসংখ্যান বলছে, এবারের মেলায় নতুন বই প্রকাশের গতি কিছুটা ধীর। সাধারণত বইমেলার প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নতুন বইয়ের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়, কিন্তু এবার পরিবর্তিত সময়সূচির কারণে নতুন বইয়ের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৪২টিতে।

বইমেলার তথ্যকেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, এই সময় পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে গল্প ১৫৭টি, উপন্যাস ১৮০টি, প্রবন্ধ ৩৮টি, কবিতা ৪২৩টি, গবেষণা ৩৩টি, ছড়া ২১টি, শিশুতোষ ৫৫টি, জীবনী ৩৬টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ১টি, নাটক ৫টি, বিজ্ঞান ১৭টি, ভ্রমণবিষয়ক ২৭টি, ইতিহাস ১৪টি, রাজনীতি ১৩টি, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ৬টি, ভাষা বিষয়ক ২টি, ধর্মীয় ১৪টি, অনুবাদ ১০টি, অভিধান ১টি, সায়েন্স ফিকশন বা গোয়েন্দা ১টি এবং অন্যান্য বিভাগে ৮৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে।

এ তালিকায় রচনাবলি কিংবা গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক নতুন কোনো বই প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি। গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১৪৬টি। বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। দিনের শেষভাগে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

সাজ্জাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.