শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

পদ্মা সেতুতে

টোল থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়াল আয়

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২০ পিএম

আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২০ পিএম

টোল থেকে  তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়াল আয়

উদ্বোধনের পর মাত্র ৪৩ মাসেই পদ্মা সেতু থেকে টোল আদায়ের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। 

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

পদ্মা সেতু পারাপার হতে সব ধরনের যানবাহনের টোল দিতে হয়। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন টোল হার নির্ধারিত আছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২২ হাজারের মতো যানবাহন পারাপার হচ্ছে। দৈনিক গড়ে টোল আদায় হয় আড়াই কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৮২ কোটি টাকা টোল আদায় হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর সংযোগকারী দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করেছে। ওই অঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষ এই সেতুর সুবিধা পাচ্ছেন।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে চালুর পর থেকে সেতুটি দিয়ে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা এবং আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে।

তারা বলছে, সেতুটি চালু হওয়ার ফলে যাতায়াতের সময় সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে এসেছে বিশাল পরিবর্তন।

পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে (মাওয়া ও জাজিরা) টোল প্লাজায় ইলেকট্রনিক টোল আদায় (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু আছে। এই পদ্ধতিতে যানবাহন দাঁড় না করিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ করা যায়। এর ফলে যানবাহনকে টোল প্লাজায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায়ের ফলে যাতায়াত আরও দ্রুত ও সহজতর হয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের ‘মাইলফলক’ অর্জনের জন্য, যানবাহনের মালিক, চালক, শ্রমিক, সেতুর দুই পারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ব্যয় হয় ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে নিজস্ব অর্থায়নে। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় নির্মাণের অর্থ ঋণ হিসেবে সেতু কর্তৃপক্ষকে দিয়েছে। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে, ৩৫ বছরে ঋণের টাকা ১ শতাংশ হারে সুদসহ ফেরত দিতে হবে। এ জন্য তিন মাস পরপর কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১৪০ কিস্তিতে ঋণের টাকা (সুদ ও আসলে) পরিশোধ করা হবে।

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, টোল থেকে আয় করা টাকা থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে চলে যায় সরকারি কোষাগারে। এরপর টোল আদায়ের জন্য যে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের পেছনে ব্যয় করতে হয়। ৫ বছরের জন্য কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়েকে ৬৯৩ কোটি টাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে ব্যয় করতে হবে।

এরপর যে টাকা থাকবে, তা থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

সাজ্জাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.