দীর্ঘ যানজট আর চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়েই শেষ হলো ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এবারের ঈদযাত্রা। আর এই ঈদযাত্রার মূল ৪ দিনে যমুনা সেতুতে টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। গত ২৪ মে থেকে ২৭ মে রাত ১২টা পর্যন্ত মাত্র ৪ দিনে এই সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৩টি ছোট-বড় যানবাহন। এতে সেতু কর্তৃপক্ষের টোল আদায় হয়েছে মোট ১৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা। সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন এ প্রতিবেদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদযাত্রার প্রথম দিন ২৪ মে সেতু দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয় ৩ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ১শ’। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ২২ হাজার ১১২ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১৭ হাজার ৮০৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫০ টাকা।
২৫ মে সেতু দিয়ে ৫৩ হাজার ২৪৬ টি যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭শ’ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ২১ হাজার ৬০ টি যানবাহন পারাপার হয়। এর বিপরীতে টোল আদায় ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫শ' টাকা।
২৬ মে সেতু দিয়ে ৫৬ হাজার ২৩৯ টি যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ৩৬ হাজার ৪২৬ টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ৪ হাজার ২শ’ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৮১৩টি যানবাহন পারাপার হয়। এর বিপরীতে টোল আদায় ১ কোটি ৬১ লাখ ৯২ হাজার ৮৫০ টাকা।
ঈদের আগের দিন ২৭ মে সেতু দিয়ে ৪৫ হাজার ৮৮৯টি যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ৯০৭ টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয় ২ কোটি ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১২ হাজার ৯৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় ১ কোটি ১১ লাখ ৬ হাজার ৯শ’ টাকা।
ঈদযাত্রার শেষ দিনে বুধবার ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে তীব্র যানজটে ঘরমুখো মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে ২০ ঘণ্টা পর যানবাহন স্বাভাবিক হয়। যানজট নিরসনে পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে আলাদা করে দুইটি করে বুথ দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার হয়। ফিরতি পথেও আমাদের একই প্রস্ততি থাকবে।
১৯৯৮ সালে সেতুটি চালু হওয়ার পর থেকে কর্তৃপক্ষ টোল আদায় করে আসছে। বিগত সময়ে সেতুর টোল আদায় করে কমিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক (সিএনএস)। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর ২৪ সালের শেষের দিক থেকে বর্তমানে চায়না রোড ব্রিজ কর্পোরেশন টোল আদায় করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









