সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতা ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে নবম জাতীয় বেতন কমিশন। সরকারি চাকরিজীবীদের ২০তম ধাপে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা আর প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সুপারিশ করা হয়েছে। তবে গ্রেড রাখা হয়েছে আগের মতোই ২০টি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সব পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার পরে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
বেতন কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান জানান, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ সব কথা জানিয়েছে। প্রেস উইং জানায়, নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগেই প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছেন আজ।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর গত বছরের ২৭ জুলাই সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে। কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।
প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
এ সময় তিনি বলেন, ‘এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’
জাকির আহেমদ খান বলেন, ‘গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতন কাঠামো নির্ধারণ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণপূর্বক বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করে।’
প্রেস উইং জানিয়েছে, নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুসরণ করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করেছে। মতামত নিয়েছে ২ হাজার ৫৫২ জনের। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে ব্যাপক মতবিনিময় করা হয়েছে। কমিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান নির্ধারণ এবং এর বাস্তবায়নযোগ্যতা পর্যালোচনা করা।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রতিবেদন দাখিলকালে বলেছেন, ‘এই প্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী সময়ের কাজ। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে, যে কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে।’
কমিশন সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি ধাপে বেতন–ভাতা সুপারিশ করেছে। সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ বেতন কাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয়েছে নির্ধারিত এক লাখ ৬০ হাজার টাকা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









