৩৬ জুলাইতে নিহতদের সুষ্ঠু ময়না তদন্ত ও তালিকা প্রকাশের দাবিতে ব্লাক র্যালী ও জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি আয়োজনে অনুষ্ঠিত ভিন্নধর্মী এ সমাবেশে সবাই জুলাইতে ৩ ধরণের নিহতের তালিকা দেয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে কালো মাস্ক পরিহিত নতুনধারার নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন ‘যে জুলাই যুদ্ধাপরাধীর, সেই জুলাই আমরা না’।
সভাপতির বক্তব্যে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেন, “এই জুলাই যে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে, তার প্রমাণ হিসেবে বলি বাংলাদেশের সরকারি গেজেটে নিহত দেখিয়েছে ৮৩৪, জাতিসংঘের রিপোর্টে ১৪০০ আর কতিপয় নেতারা বলছে হাজার হাজার। নিহত হওয়ার তথ্যে গরমিল সমস্যা সমাধানেও এনসিপি কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি, অথচ তারা জুলাই পদযাত্রার নামে মানুষের সাথে নতুন প্রতারণা শুরু করেছে। ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া প্রতিটা নেতা আজ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে আমরা নেতাদের অর্থ-সম্পদের হিসেবে চাই। সেই সাথে জুলাইকে পূজি করে গঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপির নিবন্ধন বাতিল চাই। এই দাবির সাথে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক দল জামায়াতের নিবন্ধনও বাতিল করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
সমাবেশে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও জাতীয় শ্রমিকধারার আহবায়ক মো. বাবুল মিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নূরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, ওয়াজেদ রানা, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মন্ডল, হাশেম মোল্লা, নয়ন বেপারী কাউসার, অরবিন্দ দেবনাথ, জামান সরদার, জাতীয় শিক্ষাধারার সদস্য আবদুর রহমান হাওলাদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা সম্পাদক অশোক ধর।
এ সময় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা বলেন, “বাংলাদেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে আমেরিকার হাতে তুলে দেয়ার জন্য জুলাই হয়েছিলো, যুদ্ধাপরাধী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী আজহারের মত ৬৪ জনসহ স্বাধীনতা বিরোধী তাদের সমর্থকদের ৭৪ জনকে সংসদে নিয়ে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অপমান করার জন্য জুলাই হয়েছিলো। যে জুলাই সম্পূর্ণ মিথ্যের উপর দাঁড়ানো সেই জুলাইকে দেশের মানুষ ‘না’ বলা শুরু করেছে।”
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে জুলাইতে নিহতদের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, সুষ্ঠু তদন্ত, শিক্ষার্থী নেতাদের সম্পদের হিসাব, আয়ের উৎস এবং ইউনূস সরকারের সকল উপদেষ্টার অর্থেও হিসেবের পাশাপাশি সকল নিহত ও আহতদের তালিকা প্রণয়ন করে জনগণের জন্য উম্মুক্ত করা দাবি জানান।
এ সময় মোমিন মেহেদী আবু সাঈদের লাশের ময়না তদন্ত আবারো করার দাবি জানিয়ে বলেন, “ইউনূস আমলে আবু সাঈদের বাবা প্রথম আলোকে বলেছিলো, তার ছেলের মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন ছিলো, আসামী পক্ষের আইনজীবী দুলু বলেছেন, আবু সাঈদের পোশাকে কোনো গুলির চিহ্ন নাই। যেহেতু এমন সব কথার অবতারণা হয়েছে, সেহেতু জনগণের কাছে বিষয়টি ষ্পষ্ট করতে হলেও নতুন করে ময়না তদন্ত করতে হবে এবং তা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। সেই সাথে হাদী হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের রিপোর্টও উম্মুক্ত করার দাবি জানান।”
কারণ হিসেবে বলেন, “হাদীর বোন বাদী না হয়ে কেনো তৃতীয় পক্ষ হয়েছে? এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে হাদী হত্যার বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন হাদীর বোন নিজেই। অতএব, বিএনপি সরকারের উচিৎ হবে এই বিষয়টিরও একটা সঠিক সুরাহা করার জন্য হাদীর লাশ উঠিয়ে ময়না তদন্তের পর সেই লাশ তার পারিবারিক কবরে সমাহিত করার ব্যবস্থা করা। কারণ হাদী জাতীয় কবির পাশে সমাহিত হওয়ার মত কোনো ব্যক্তি ছিলেন না।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









